বালিকা চুপ, অর্থাৎ বিয়েতে সম্মতি! আজব আইনে বিতর্ক

17

বালিকাদের নীরবতাই বিয়ের জন্য সম্মতি! অর্থাৎ, বালিকা বিয়েতে ইচ্ছুক কি না তা বালিকার চুপ করে থাকাকেই হ্যাঁ বলে ধরে নেওয়া হবে। এমনই নাকি আইন পাশ করেছে তালিবান সরকার। কিন্তু কোনও ছেলে বা আগে বিবাহিত মহিলার নীরবতাকে সম্মতি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। ২০২১ সাল থেকে আফগানিস্তানে মেয়েদের ষষ্ঠ শ্রেণির পর পড়াশোনা করতে দেওয়া হচ্ছে না। মেয়েদের উচ্চ শিক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মহিলারা চাকরি করতে দেওয়া হয় না। ভ্রমণ ও সামাজিক অনুষ্ঠানেও মহিলাদের অংশগ্রহণে হাজারও নিষেধাজ্ঞা।

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নারীদের নিত্য জীবনযাত্রায় একাধিক অমানবিক বিধিনিষেধ আরোপ আগেই হয়েছিল। এবার সেই সীমাও যেন ছাড়িয়ে গেল আফগানিস্তানের তালিবান সরকার। এবার বিবাহবিচ্ছেদ এবং বাল্যবিবাহ সংক্রান্ত নয়া আইন পাশ করল তালিবান সরকার। যেখানে বলা হয়েছে, বিয়ের কবুলনামায় বালিকাদের নীরবতাকে সম্মতি হিসেবে গ্রহণ করা হবে। আফগানিস্তানের সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে এই দলিল। তালিবান শাসনে বিবাহ সংক্রান্ত বিরোধ, বিচ্ছেদ, অভিভাবকত্ব এবং বিবাহ বাতিলের পদ্ধতিগুলো বর্ণনা করা হয়েছে। আইনটিতে বলা হয়েছে যে, আত্মীয়দের দ্বারা আয়োজিত কোনও নাবালক ছেলে বা মেয়ের বিবাহ বৈধ বলে বিবেচিত হতে পারে, যদি বরকে সামাজিকভাবে উপযুক্ত বলে মনে করা হয় এবং ধর্মীয় মানদণ্ড পূরণ করে যৌতুক দেওয়া হয়।

এই বিধিতে ‘খিয়ার আল-বুলুগ’ বা ‘বয়ঃসন্ধিকালের পর বিকল্প’ নামক আইনি মতবাদকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যা বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছনোর পর সন্তানের অনুরোধে বয়ঃসন্ধির আগে হওয়া বিবাহ বাতিল করার অনুমতি দেয়। বিয়ে বাতিলের জন্য ধর্মীয় আদালতের সম্মতি প্রয়োজন। এছাড়াও, যদি সঙ্গীকে অনুপযুক্ত বলে মনে করা হয় অথবা যৌতুক অতিরিক্ত ভারসাম্যহীন হয়, তবে বিবাহটি আইনি বৈধতা পাবে না।

এই ডিক্রি তালিবান বিচারকদের ব্যভিচার, ধর্ম পরিবর্তন, স্বামীর দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবং ‘জিহার’—একটি চিরায়ত ইসলামিক ধারণা। যেখানে স্বামী তাঁর স্ত্রীকে এমন কোনও নারী আত্মীয়ের সঙ্গে তুলনা করে যাকে বিয়ে করা তাঁর জন্য নিষিদ্ধ, এই সংক্রান্ত বিবাদে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা দেয়।


কিছুদিন আগেই আফগানিস্তান নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছিল একটি নয়া আইন নিয়ে। তালিবানি শাসনে স্বামীরা তাঁদের স্ত্রীকে যৌন নির্যাতন ও মারধর করতে পারেন তবে শর্ত হল, আঘাত যেন দৃশ্যমান না হয়। রক্ত না ঝরে।