ন্যাশনাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সঙ্কটের জন্য ভারতে লকডাউন হবে না। কিন্তু জটিল সময়ে সবাইকে যে কোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে কৃচ্ছ্রসাধনের বার্তা দিয়েছিলেন। পেট্রোপণ্য, ভোজ্য তেল ব্যবহারে সংযমী হওয়ার পাশাপাশি এক বছর দেশবাসীকে সোনা না কেনার আহ্বান জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, ‘দেশে এই মুহূর্তে জরুরিকালীন পরিস্থিতি দেখা দেয়নি। কিন্তু আমাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য বিশ্বের জ্বালানি বাজার ও ট্রেড রুট প্রভাবিত হয়েছে।’
এক নজরে
কেন প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা?
মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কটের প্রভাবে সারা বিশ্বে এক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। প্রভাবিত হয়েছে প্রতিটি দেশ। এই পরিস্থিতিতে কি ভারতে লকডাউন হবে? কেন প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে কৃচ্ছ্রসাধনের বার্তা দিলেন? এই বিষয়ে জাতীয়স্তরের একটি সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, ‘ভারত মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট তৈরি করেনি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আজ যখন আমরা প্রভাবিত হয়েছি, তাই আমাদেরও প্রস্তুতি নিতে হবে। আমরা বিষয়টাকে এড়িয়ে যেতে পারি না। তাই দেশবাসীকে জ্বালানি ব্যবহারে সংযমী হতে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’ আসলে এই বার্তা একটা প্রস্তুতি। যাতে দেশ লকডাউনের পথে না যায়। জটিল সময় অতিবাহিত করতে সংযমী হওয়ার বার্তাই স্বাভাবিক।
# আরও পড়ুন :
মোদীর হাত ধরে ইতিহাস পুনরুদ্ধার
ভারত আমদানির উপর কতটা নির্ভরশীল?
শুধু ভারতবর্ষ নয়, পৃথিবীর প্রতিটি দেশ একে অপরের উপর নির্ভরশীল। করোনাকালের লকডাউনে তা প্রমাণিত হয়েছে। ফলে একটি দেশে সঙ্কট দেখা দিলে প্রভাবিত হয় গোটা বিশ্ব। মোদী সরকার দেশের ক্ষমতায় আসার পর ‘মেক ইন ইন্ডিয়ায়’ জোর দেয়। যাতে আন্তর্জাতিক নির্ভরশীলতা কমানো যায়। গত বারো বছর ধরে এই কাজ করে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, ‘১২ বছর আগেই প্রধানমন্ত্রী একাধিক পদক্ষেপ হাতে নিয়েছেন। যেমন ধরুন দেশীয় উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া, শক্তি সংরক্ষণ, প্রধানমন্ত্রী অনেক কাজ করেছেন। তারপরও মনে রাখতে হবে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় জ্বালানি তেলের আমদানিকারক দেশ। তাই নেতাদের পরামর্শ আমাদের শুনতে হবে, যখন চারপাশে সঙ্কট ছেয়ে গেছে। এটা স্বাভাবিক সময় নয়।’
বিরোধীদের ভূমিকায় ক্ষোভ কিরেন রিজিজুর

সঙ্কটের সময় বিরোধীদের সরকারের পাশে থাকা উচিৎ। কিন্তু বিরোধীরা তা করছেন না। বরং দেশ লকডাউনের পথে এগোচ্ছে এমন কথা বলছেন। এ ব্যাপারে কিরেন রিজিজু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি সংসদে বিরোধীদের উত্তর দিতে চাই। জরুরিকালীন সময়ে দেশকে নেতার পাশে দাঁড়ানো উচিৎ। স্বাভাবিক সময়ে রাজনীতি করুন না। কিন্তু জরুরিবস্থায় চাই জরুরি সহাযোগিতাও। বিরোধীদের তো এই জটিল সময়ে সরকারের পাশে দাঁড়ানো উচিৎ।’
অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি
হরমুজ নিয়ে এখনও জটিলতা কাটেনি। ভারত সহ বিভিন্ন দেশের প্রায় দেড় হাজারের বেশি তেলবাহী ট্যাঙ্কার আটকে রয়েছে। ভারতের প্রয়োজনীয় পেট্রপণ্যের বিরাট অংশ আসে এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই। বর্তমানে বিকল্প রুটে ভারত দেশে আসছে কিছু পেট্রপণ্য। যা স্বাভাবিকের চেয়েও কম। তাই পেট্রোপণ্য ব্যবহারে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এব্যাপারে কিরেন রিজিজু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা জ্বালানি খরচ কম করতে পদক্ষেপ হাতে নিয়েছি। আমরা আমাদের মন্ত্রণালয়কে বলেছি, জ্বালানি খরচ যাতে ৫০ শতাংশের বেশি কমানো হয়। একই সঙ্গে খুব জরুরি কাজ না থাকলে বিদেশ ভ্রমণও বন্ধ করা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রীর কৃচ্ছ্রসাধনের বার্তা কতটা প্রভাব ফেলবে?

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, ‘যদি এক কোটি মানুষ প্রধানমন্ত্রীর বার্তা মেনে চলেন, তাহলে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। সেই প্রভাব কতটা হতে পারে, ভেবে দেখুন।’ একই সঙ্গে কিরেন রিজিজু দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘দেশে লকডাউন হচ্ছে না। ভারতবর্ষ সেরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি, তবে যে কোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকা বুদ্ধিমানের কাজ।’
দেখুন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর ইন্টারভিউ
এদিকে, বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশে ফিরেই প্রধানমন্ত্রী আরও একবার দেশবাসীকে সংযমী হওয়ার বার্তা দিয়েছেন। উল্লেখ্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইন্ধনের সঙ্কটে যাতে দেশে লকডাউনের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে জন্য UAE-এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেন মোদী। ভারতের জন্য ইন্ধন রিজার্ভ রাখতে সম্মত হয়েছে UAE. পাশাপাশি সাগরের তলা দিয়ে গ্যাস পাইপলাইন স্থাপন নিয়েও আলোচনা হয়। এতে একটি বিষয় স্পষ্ট, ভবিষ্যতে বিশ্বের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য এখন থেকে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে নয়া দিল্লি।
সৌদি আরবে ফের হামলা
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর UAE সফরের পর ফের উত্তেজনা ছড়াল পশ্চিম এশিয়ায়। রবিবার দুপুরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির এক পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে আঘাত হানে একটি ড্রোন। ঘটনাটি ঘটেছে আবু ধাবি থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত বরাখ পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে। এই ঘটনার পর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাইরে থাকা একটি জেনারেটরে আগুন ধরে যায়। তবে বিশেষ কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। কে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে, তাও স্পষ্ট নয়। আবু ধাবির প্রশাসনও এই হামলার জন্য কাউকে দায়ী করেনি। তবে রবিবারের এই ঘটনায় (লকডাউন) নতুন করে উত্তেজনা ছড়াতে পারে মধ্য প্রাচ্যে।
মোদীর হাত ধরে ইতিহাস পুনরুদ্ধার, নেদারল্যান্ডস ফেরাল চোল আমলের অমূল্য রতন
অবশেষে দেশে ফিরছে চোল সাম্রাজ্যের অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ। শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেদারল্যান্ডস সফর চলাকালীন, একাদশ শতাব্দীর চোল সাম্রাজ্যের অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ ‘আনাইমঙ্গলম প্লেটস’ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের হাতে তুলে দিল ডাচ সরকার। ২০১২ সাল থেকে ভারত এই ঐতিহাসিক নিদর্শন দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছিল। আগামিদিনে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নতির ক্ষেত্রে এটি একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে বিশ্বের রাজনৈতিক মহল। (লকডাউন)
মোদীর নেতৃত্বে কূটনৈতিক সাফল্য
বিদেশ সফরের দ্বিতীয় পর্বে শুক্রবার নেদারল্যান্ডস পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী। শনিবার ডাচ প্রধানমন্ত্রী রব জেটেন-এর উপস্থিতিতে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে এই চোল আমলের তাম্রপত্র ( নেদারল্যান্ডসে’লাইডেন তাম্রপত্র’ (Leiden Plates) নামে পরিচিত) ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ‘প্রত্যেক ভারতীয়ের জন্য এক আনন্দের মুহূর্ত’ বলে সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ডাচ সরকারের এই পদক্ষেপকে দুই দেশের গভীর কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবেই দেখছেন ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। (লকডাউন)
আনাইমঙ্গলম তাম্রলিপির ইতিহাস
ঐতিহাসিকদের মতে, এই তাম্রলিপি চোল বংশের সম্রাট প্রথম রাজরাজ চোল আমলের। যার সময়কাল ৯৮৫ থেকে ১০১৪ খ্রিস্টাব্দের বলেই মনে করা হয়। সম্রাট প্রথম রাজরাজ চোলের মৌখিক নির্দেশকে লিখিত রূপ দিতে তাঁর পুত্র প্রথম রাজেন্দ্র চোল এই তাম্রপত্রগুলি খোদাই করিয়েছিলেন। এই তাম্রলিপিতে নাগাপট্টিনমের ‘চূড়ামণি বিহার’-এর জন্য ভূমি রাজস্ব ও কর দানের উল্লেখ রয়েছে। (লকডাউন) বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই লিপিগুলি তৎকালীন দক্ষিণ ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও ধর্মীয় সহাবস্থান ও সাংস্কৃতিক আদানপ্রদানের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ বহন করে।
অষ্টাদশ শতাব্দীতে দক্ষিণ ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ওলন্দাজ বা ডাচ শাসন কায়েম ছিল। সেই সময়েই এটি লুঠ করে নেদারল্যান্ডসে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আনাইমঙ্গলম তামার লিপিগুলির আকার অত্যন্ত বিশাল। প্রায় ৩০ কেজি ওজনের এই সংগ্রহে ২১টি বড় ও ৩টি ছোট তামার প্লেট রয়েছে। সেগুলি একটি ব্রোঞ্জের আংটি ও চোল রাজবংশের সিলমোহর দিয়ে একসঙ্গে বাঁধা আছে। (লকডাউন) বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলি শুধুমাত্র প্রশাসনিক নথি নয়, বরং মধ্যযুগীয় দক্ষিণ ভারতের বাণিজ্যিক সমৃদ্ধ ও বিশ্বসংযুক্ত সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল। এতদিন এই অমূল্য ঐতিহাসিক নিদর্শন লাইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত ছিল। এ বার তার ঘরে ফেরার পালা।