‘রাজনৈতিক ঔদ্ধত্যের মাশুল গুনছে গরিব মানুষ’, ‘বুলডোজার-রাজ’ নিয়ে সরব মমতা

10

নিউজ ডেস্ক : রাজ্যে পালাবদলের পরই বিজেপি বলেছিল, কোনও বেআইনি নির্মাণকে প্রশয় দেওয়া হবে না। গত কয়েকদিনে রাজ্যের একাধিক প্রান্তে বুলডোজার চলেছে। তা নিয়ে এবার সরব হলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘রাজনৈতিক ঔদ্ধত্যের মূল্য দিচ্ছে গরিবরা।’

রবিবার রাতে এক্স পোস্টে মমতা লেখেন, ‘বাড়িঘর থেকে শুরু করে ফুটপাথের দোকান, রাজনৈতিক ঔদ্ধত্যের চরম মাশুল গুনতে হচ্ছে গরিব মানুষকে। বাংলা কখনও বুলডোজারের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। রবীন্দ্রনাথ এবং নেতাজির এই ভূমিতে সাধারণ মানুষদের উপর ভয় দেখিয়ে, বলপ্রয়োগ করে বা উচ্ছেদ অভিযানের নামে শাসন করা যায় না।’

সাম্প্রতিক ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘আজ আমরা যা দেখছি, তা বাংলার মানুষের মর্যাদার উপর আঘাত। দিনমজুর, হকার, ছোট দোকানদার এবং গরিব পরিবারগুলি তিলে তিলে জীবিকার মাধ্যম তৈরি করেছিল। সেখানেও আঘাত হানা হচ্ছে। হাওড়া স্টেশনের আশেপাশে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চলছে। তিলজলা ও পার্ক সার্কাসের রাস্তায় ফেটে পড়া অস্থিরতা ও ক্ষোভ এবং হঠাৎ আশ্রয় ও জীবিকা থেকে বঞ্চিতদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান হতাশা সরকারের এমন এক দিক তুলে ধরছে, যা বুঝিয়ে দিচ্ছে, মানবতার চেয়ে লোকদেখানো আচরণে তারা বেশি মগ্ন।’

মমতার মতে, ‘যে সরকার আগে ভাঙে এবং পরে শোনে, তারা বাংলার আবেগ, চেতনাকেই ভুলে গিয়েছে। প্রকৃত উন্নয়ন বা অগ্রগতির বিচার হয় একটি রাজ্য তার সবচেয়ে দুর্বল নাগরিকদের সঙ্গে কেমন আচরণ করছে তা দিয়ে, কত দ্রুত তাদের মুছে ফেলা হচ্ছে, তা দিয়ে নয়।

সব শেষে মমতা লেখেন, ‘সংস্কৃতি, সহানুভূতি এবং শোষণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঐতিহ্যে গড়ে ওঠা একটি রাজ্যে বুলডোজার কখনও প্রশাসনের ভাষা হতে পারে না।’

শনিবার রাতে হাওড়া স্টেশনের বাইরে চলে বুলডোজার। ফুটপাথের প্রায় ১৫০ টি ‘অবৈধ’ স্টল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। একই ছবি ছিল শিয়ালদহেরও। একের পর এক ‘অবৈধ’ স্টল গজিয়ে উঠছিল স্টেশন লাগোয়া এলাকায়। অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে ইউনিয়নের দাপট চলত ওই চত্বরে। পালাবদল হতেই হকার উচ্ছেদ করল সরকার।