নারায়ণ সরকার, মালদহ: ২৭ বা ২৮ মে কুরবানির ইদ। চার দিকে সাজ সাজ রব। মুসলিম পরিবারগুলিতে উৎসব পালনের সব প্রস্তুতি সারা। কিন্তু মালদহের চাঁচলের মারুফ বাড়িতে এক সপ্তাহ আগেই যেন ইদ উৎসব। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে পথ চেয়ে বসেছিলেন মা-বাবা। অপেক্ষায় দুজনেই বৃদ্ধ হয়েছেন কিন্তু আশা ছাড়েননি। অবশেষে তাদের আশা পূর্ণ হল। পনেরো বছর পর বাংলাদেশ থেকে ঘরে ফিরল হারিয়ে যাওয়া ছেলে। হারানো ছেলেকে ফিরে পেয়ে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের চোখে বাঁধ ভাঙা আনন্দ অশ্রুধারা।
মালদহের চাঁচল ১ নং ব্লকের ইসলামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ছকরডিগি এলাকার বাসিন্দা মারুফ আলির ছেলে নাজিমুল হক ১৫ বছর আগে হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষা, চোখের জল আর অসংখ্য খোঁজাখুঁজির পরও মেলেনি কোন সন্ধান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আশাও যখন ফিকে হয়ে আসছিল তখনই আসে এক অবিশ্বাস্য খবর। বছর খানেক সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে বাংলাদেশের ছেলের খোঁজ পান পরিবার। নাজিমুলের একটি ভিডিও চোখে পড়ে পরিবারের। এরপরই শুরু হয় তাঁকে দেশে ফেরানোর লড়াই। খবর সম্প্রচারের পর সক্রিয় হয় প্রশাসন। দক্ষিণ মালদহের কংগ্রেস সাংসদ ইশা খান চৌধুরী বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দিল্লিতে দফতরেও যান তিনি। প্রায় ১ বছরের আইনি লড়াই ও প্রশাসনিক তৎপরতার পর অবশেষে মালদহের মহদীপুর সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরেন নাজিমুল।
ছেলে বাড়ি ফিরতেই আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয় গোটা গ্রামে। নাজিমুলের মা নুরেজা বিবি জানিয়েছেন, ‘ছেলেকে ফিরে পেয়ে তিনি অত্যন্ত খুশি। চোখের জল থামছেই না। ছেলেটার হাত-পা একটু ফুলে গেছে। হাঁটতে পারছে না। তা দেখে কষ্ট হচ্ছে। ও দ্রুত সুস্থ হোক, ঘুরে ফিরে চলুক। প্রশাসন চিকিৎসার ব্যবস্থা করুক। এখন এটাই চাই।’
নাজিমুলের বাবা জানিয়েছেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের প্রশাসন সহযোগিতা করে আমার ছেলেকে ঘরে ফিরিয়েছে। আমি দুই দেশের প্রশাসনকেই ধন্যবাদ জানাই। আমি ভাবিনি যে আমার ছেলে ঘরে ফিরবে। বৃদ্ধ বয়সে ছেলেকে ফিরে পেয়ে খুব খুশি।’
তবে নাজিমুলের মা নুরেজা বিবি আরও জানিয়েছেন, তাঁর দুই ছেলে দুই মেয়ে। কিন্তু ১৫ বছর আগে দুই ছেলেই নিখোঁজ হয়ে যায়। বড় ছেলে নাজিমুলের খোঁজ পাওয়ার পর সে এখন বাড়িতে ফিরে এসেছে। তবে ছোট ছেলে নুরে আলমের অপেক্ষায় এখনও রয়েছেন তাঁরা।