ধর্মতলায় কাউন্সিলরদের বিক্ষোভের নির্দেশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

33

কলকাতা,দেবারতি ঘোষ : রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝেই এবার কলকাতা পুরসভাকে ঘিরে তৈরি হল নতুন করে বিতর্ক। একদিকে মাসিক হাউস অধিবেশন না হওয়াকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে শুক্রবার বিকেলে কালীঘাটে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে ডাকা হল কলকাতা পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলরদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সূত্রের খবর, প্রায় ১১০ জনেরও বেশি কাউন্সিলর এই বৈঠকে যোগ দেন। সিংহভাগ তৃণমূল কাউন্সিলর উপস্থিত থাকলেও, উত্তর কলকাতার অনিন্দ্য রাউথ দক্ষিণ কলকাতার জুই বিশ্বাস, দেবলীনা বিশ্বাস, তারক সিং বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত র মতো গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাউন্সিলারই এ দিনের বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় জানান, যেভাবে পুর কমিশনার পুরসভা পরিচালনার চেষ্টা করছেন তা সম্পূর্ণ অনৈতিক। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাজে বারবার হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে এবং কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে পুলিশি হয়রানির ঘটনাও বাড়ছে। তবে দলনেত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, “যাদের বিরুদ্ধে পুলিশি হয়রানি করা হচ্ছে আমরা তাদের পাশে আছি। দেশে আইন ব্যবস্থা রয়েছে, ভরসা হারানোর কোনও কারণ নেই।”

বৈঠকে উঠে আসে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি ভাঙার ইস্যুও। কাউন্সিলর ফাইয়াজ খান কে বলেন তিলজলা তপসিয়া এলাকায় বিক্ষোভে বসতে। তৃণমূল নেত্রী অভিযোগ করেন, ৪০১ ধারার নোটিশ পাঠিয়ে যেভাবে বাড়ি ভাঙা হচ্ছে তা নিয়ম মেনে করা হচ্ছে না। তাঁর দাবি, মানুষকে পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে উচ্ছেদের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রস্তাব দেন, যেখানে যেখানে বাড়ি ভাঙা হবে সেখানে ১৪৪ ধারা জারি থাকলেও কাউন্সিলরদের বিক্ষোভে বসতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারেন তাঁদের পাশে জনপ্রতিনিধিরা রয়েছেন।

এদিন বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, নির্বাচিত পুরবোর্ডের কাজে বাধা ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে তৃণমূল। ধর্মতলায় ধর্না কর্মসূচির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে দ্রুত ধর্মতলা চত্বরে জায়গা নির্বাচন করে ঝরনার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।দলের বক্তব্য, একটি নির্বাচিত পুরবোর্ডকে কেন স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না, সেই প্রশ্নেই আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।
ডিসেম্বরের পুরো ভোট সুতরাং নাগরিকরা যাতে কোনোভাবেই পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হয় সেদিকে কড়া নজরদারি রাখতে বলা হয়েছে, প্রত্যেক কাউন্সিলর কে।