পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা:রথযাত্রা লোকারণ্য মহা ধুমধাম। রথযাত্রা উপলক্ষে ওড়িশার পুরীতে শ্রীমন্দির চত্বরে ভক্তদের ভিড়। দেশ-বিদেশ থেকে কয়েক লক্ষ মানুষ রথযাত্রা উপলক্ষে পৌঁছে গিয়েছেন। বিকেল ৪টেয় রথের দড়িতে টান দেবেন ভক্তরা। জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রা তিনটি পৃথক রথে চেপে গুণ্ডিচা মন্দিরের উদ্দেশে রওনা দেবেন। উৎসবকে ঘিরে শহরজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ও বিশেষ যান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। সকাল থেকেই শুরু পুজোর নানা নিয়ম-অনুষ্ঠান।
ভোর ৬টায় মঙ্গল আরতির মাধ্যমে রথের সূচনা হয়েছে। এরপর মৈলম, তড়প লাগি, রোষ হোম, অবকাশ, সূর্যপুজো, দ্বারপাল পুজো এবং সকালের ভোগের অনুষ্ঠান হয়েছে। সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হয়েছে পাহান্ডি। এই পর্বে গর্ভগৃহ থেকে দেবমূর্তিগুলিকে রথে আনা হয়েছে। সাড়ে ১২টার মধ্যে সেই আচার শেষ করে ছেরা পাহানরা-সহ অন্যান্য রীতি সম্পন্ন হওয়ার পর বিকেল ৪টেয় শুরু হবে রথ টানা।

বছরে একবার জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা শ্রীমন্দির থেকে গুণ্ডিচা মন্দিরে যান। গুণ্ডিচা মন্দিরকে তাদের মাসির বাড়ি হিসেবে মানা হয়। প্রতি বছর নতুন কাঠ দিয়ে তিনটি রথ তৈরি করা হয়। আগের বছরের রথ ব্যবহার করা হয় না পুরীতে। রথের দড়ি টান দেয় সব ধর্মের মানুষ।
কলকাতার ইসকনের রথযাত্রার সূচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী পদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম রথযাত্রা। আজ দুপুরে অ্যালবার্ট রোডের ইসকন মন্দির থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে রথযাত্রার সূচনা করবেন তিনি। এর পর কিছু দূর রথযাত্রায় অংশ নেবেন মুখ্যমন্ত্রী।
ইসকনের রথযাত্রা অ্যালবার্ট রোডের মন্দির থেকে শুরু হয়ে হাঙ্গারফোর্ড স্ট্রিট, এজেসি বোস রোড, শরৎ বোস রোড, হাজরা রোড, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রোড, এক্সাইড মোড়, জওহরলাল নেহরু রোড, আউট্রাম রোড হয়ে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছোবে। সাত দিন মাসির বাড়ি থাকবে জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রা। তারপর উল্টোরথ। কলকাতা পুলিশ এর পক্ষ থেকে যান নিয়ন্ত্রণ করা হবে । প্রচুর ভক্তের সমাগম হবে ইসকনের এই রথযাত্রায় এমনটাই মনে করছেন কর্তৃপক্ষ।