নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ম্যাচ বল ‘ট্রাইওন্ডা’ ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে উন্নত ও বৈপ্লবিক প্রযুক্তির ছোঁয়া নিয়ে মাঠে গড়াতে প্রস্তুত। বিশ্ববিখ্যাত ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারক সংস্থা টানা ১৫ বারের মতো এবারও ফুটবল বিশ্বকাপের এই অফিশিয়াল বলটি তৈরি করেছে।
১. নামকরণ ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য
‘ট্রাইওন্ডা’ নামটি এসেছে মূলত দুটি শব্দের সংমিশ্রণ থেকে—’ট্রাই’ যার অর্থ ৩ এবং স্প্যানিশ শব্দ ‘ওন্ডা’ যার অর্থ ঢেউ। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে তিনটি দেশ—আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো। এই ৩ দেশের ঐক্য, সংস্কৃতি এবং বিখ্যাত ‘লা ওলা’ বা মেক্সিকান ওয়েভকে সম্মান জানাতেই বলটির নাম রাখা হয়েছে ‘ট্রাইওন্ডা’ বা ‘তিনটি ঢেউ’।
২. অনন্য নকশা ও সর্বনিম্ন প্যানেল
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে ‘ট্রাইওন্ডা’ই প্রথম বল যা মাত্র ৪টি প্যানেল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এর আগে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ‘আল রিহলা’ বলে ছিল ২০টি প্যানেল।
থার্মাল বন্ডিং: বলের ৪টি প্যানেলকে থার্মালি বা তাপীয় জোড়াতালির মাধ্যমে যুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে এতে কোনো সেলাই নেই।প্রভাব: কম প্যানেল ও সেলাইহীন মসৃণ উপরিভাগের কারণে বলটির গতিপথ হবে অত্যন্ত নিখুঁত এবং ফুটবলাররা শট বা ড্রিবলিংয়ের সময় দারুণ নিয়ন্ত্রণ পাবেন।
৩. প্রতীকী রঙের ব্যবহার
বলের আকর্ষণীয় ভিজ্যুয়াল ডিজাইনে তিন আয়োজক দেশের জাতীয় প্রতীক ও রঙকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে
আমেরিকা: নীল রঙের ঢেউ এবং সাথে রয়েছে পাঁচ কোণাবিশিষ্ট তারকা।
কানাডা: লাল রঙের ঢেউ এবং তাদের ঐতিহ্যবাহী ম্যাপল পাতা
মেক্সিকো: সবুজ রঙের ঢেউ এবং তাদের জাতীয় প্রতীক ঈগল পাখির মাথা
সোনালি ছোঁয়া: বলের নকশায় সোনালি রঙের হালকা ব্যবহার রয়েছে, যা মূলত ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে।
৪. কানেক্টেড বল ও এআই প্রযুক্তি
প্রযুক্তির দিক থেকে এটি এযাবৎকালের সবচেয়ে ‘স্মার্ট’ ফুটবল। মাঠের নিখুঁত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এতে ব্যবহার করা হয়েছে উচ্চ প্রযুক্তির সেন্সর। ৫০০ হার্টজ মোশন সেন্সর: বলের ভেতরের দেয়ালে একটি বিশেষ সেন্সর চিপ বসানো আছে। এটি প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার বলের গতিবিধি সংক্রান্ত ডেটা বা তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম।
রিয়েল-টাইম ডেটা ও ভিএআর : বলটিতে কোন খেলোয়াড় কখন স্পর্শ করলেন, বলের গতি কত বা এটি কোন দিকে যাচ্ছে—সব তথ্য মুহূর্তের মধ্যে চলে যাবে ম্যাচ অফিশিয়ালদের কাছে। এর ফলে অফসাইড, হ্যান্ডবল বা গোললাইনের মতো জটিল সিদ্ধান্তগুলো ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি প্রযুক্তির মাধ্যমে খুব দ্রুত ও নির্ভুলভাবে নেওয়া যাবে।
চার্জিং সিস্টেম: ভেতরের চিপ ও এআই প্রযুক্তি সচল রাখার জন্য ম্যাচ শুরুর আগে এই বলগুলোকে নির্দিষ্ট ডকিং স্টেশনে চার্জ দিতে হয়।
৫. বৈচিত্র্যময় আবহাওয়ার উপযোগী
২০২৬ বিশ্বকাপটি আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকোর ১৬টি ভিন্ন শহরের বিভিন্ন আবহাওয়া অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রযুক্তিবিদরা এই বলটি এমনভাবে তৈরি করেছেন যাতে তীব্র গরম, আর্দ্রতা বা বৃষ্টির মধ্যেও মাঠভেদে বলের আচরণে কোনো পরিবর্তন না আসে। বলের বিশেষ টেক্সচারযুক্ত উপরিভাগ বাতাস ও বৃষ্টির মধ্যেও এর চমৎকার ভারসাম্য বজায় রাখে এবং পানি শোষণ ক্ষমতা সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখে।
ব্রুকলিন ব্রিজ পার্কের এক জমকালো অনুষ্ঠানে জিনেদিন জিদান, কাফু, জাভিদের মতো কিংবদন্তিদের উপস্থিতিতে উন্মোচিত হওয়া এই ‘ট্রাইওন্ডা’ কেবল একটি খেলার উপকরণ নয়, এটি আধুনিক ক্রীড়া প্রকৌশলের এক অনন্য নিদর্শন। মাঠে বলটির আচরণ কেমন হয় এবং এটি ফুটবলারদের পারফরম্যান্সে কতটা গতি আনে, তা দেখার জন্য এখন পুরো বিশ্ব মুখিয়ে রয়েছে।