ঘোষিত আর্জেন্টিনার দল, মেসির সঙ্গী কারা?

226,248

নিউজ ডেস্ক: আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে অভিজ্ঞ ও একঝাঁক প্রতিভাবান তরুণদের সমন্বয়ে আর্জেন্টিনা দল সাজিয়েছেন। ডিফেন্ডিং বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের শিরোপা ধরে রাখার এই মিশনে প্রধান ফুটবলারদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও ভূমিকা নিচে তুলে ধরা হল।

গোলরক্ষক

ইমিলিয়ানো মার্তিনেস : দলের এক নম্বর ও বিশ্বস্ত গোলরক্ষক। কাতার বিশ্বকাপের টাইব্রেকার হিরো এবং গোল্ডেন গ্লাভস জয়ী এই তারকা এবারও আর্জেন্টিনার গোলপোস্টের প্রধান প্রাচীর।
জেরোনিমো রুলি: ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের মার্সেই-এর হয়ে খেলা অত্যন্ত অভিজ্ঞ গোলরক্ষক, যিনি মার্তিনেসের ব্যাক-আপ হিসেবে যেকোনো সময় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।
ওয়ালটার বনিতেস: পিএসভি আইন্দহোভেনের হয়ে দারুণ পারফর্ম করা বনিতেস দলের গোলকিপিং বিভাগকে আরও শক্তিশালী করেছেন।

রক্ষণভাগ
ক্রিস্টিয়ান রোমেরো : টটেনহ্যাম হটস্পারের এই তারকা রক্ষণভাগের প্রধান সেনাপতি। তার আগ্রাসী ট্যাকলিং ও বিমান আক্রমণ প্রতিহত করার ক্ষমতা অনন্য।লিসান্দ্রো মার্তিনেস: ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ডিফেন্ডার তার দুর্দান্ত বল পাসিং এবং ডিফেন্সিভ রিডিংয়ের জন্য পরিচিত।
নিকোলাস ওটামেন্ডি: দলের সবচেয়ে প্রবীণ ও অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার। তরুণদের পথ দেখাতে তার উপস্থিতি স্কোয়াডে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নাহুয়েল মলিনা ও গনসালো মন্তিয়েল : ডান-প্রান্তের রাইট-ব্যাক পজিশন সামলানোর মূল দায়িত্ব এই দুই ফুটবলারের কাঁধে।
নিকোলাস তাগলিয়াফিকো : লেফট-ব্যাক পজিশনে রক্ষণ ও আক্রমণ উভয় ক্ষেত্রেই অবদান রাখতে সক্ষম অভিজ্ঞ লেফট-ব্যাক।

মাঝমাঠ
রদ্রিগো দে পল: আর্জেন্টিনা দলের মধ্যমাঠের ‘ইঞ্জিন’। মাঠজুড়ে অবিরাম দৌড়ানো এবং রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে তিনি সেরা।
আলেক্সিস মাক আলিস্তের : লিভারপুলের এই মিডফিল্ডার তার দারুণ ক্রিয়েটিভিটি এবং বল নিয়ন্ত্রণের দক্ষতার মাধ্যমে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ রাখেন।
এনজো ফার্নান্ডেজ : কাতার বিশ্বকাপের সেরা তরুণ ফুটবলার এবার মধ্যমাঠের অন্যতম প্রধান কাণ্ডারি হিসেবে খেলবেন।
লেয়ান্দ্রো পারেদেস ও এসেকিয়েল পালাসিওস : দলের কৌশলগত প্রয়োজনে মধ্যমাঠের গভীরতা ধরে রাখতে এই দুই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার কার্যকরী ভূমিকা পালন করবেন।
নিকো পাজ : ইউরোপীয় ফুটবলে চোখ ধাঁধানো পারফর্ম করা এই তরুণ তুর্কি আর্জেন্টিনার মধ্যমাঠের ভবিষ্যৎ এবং বড় চমক।

আক্রমণভাগ
লিওনেল মেসি : দলের অধিনায়ক, কিংবদন্তি এবং মূল চালিকাশক্তি। এটি হতে যাচ্ছে তার ক্যারিয়ারের রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ।
লতারো মার্তিনেস : ইন্টার মিলানের এই স্ট্রাইকার বক্সের ভেতর দারুণ ফিনিশিং ও গোল করার ক্ষমতার জন্য দলের অন্যতম প্রধান ভরসা।
হুলিয়ান আলভারেস : আতলেতিকো মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড তার গতি, ওয়ার্ক-রেট এবং বহুমুখী আক্রমণের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের রক্ষণ চূর্ণ করতে ওস্তাদ।
নিকোলাস গনসালেস ও পাওলো দিবালা : দুই প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ সচল রাখতে এবং মেসিসহ অন্যান্য স্ট্রাইকারদের বল সাপ্লাই দিতে উইঙ্গার হিসেবে এরা মূল ভূমিকা রাখবেন।
ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো ও থিয়াগো আলমাদা : আর্জেন্টিনার আগামী প্রজন্মের দুই অত্যন্ত প্রতিভাবান অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ও ফরোয়ার্ড, যারা যেকোনো সময় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন।

অভিজ্ঞতা ও তরুণ প্রতিভার এই নিখুঁত মিশ্রণ নিয়ে কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে আলবিসেলেস্তেরা ২০২৬ বিশ্বকাপে আবারও বিশ্বজয়ের অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে মাঠে নামবে।