নিউজ ডেস্ক: মন্ত্রীদের অনুরোধে প্রতিবাদ কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেন শিবসাগরের বিধায়ক অখিল গগৈ।অসমের দুই মন্ত্রী পীযূষ হাজরিকা ও কেশব মহন্ত অখিলের কাছে গিয়ে অনুরোধ করেন প্রতিবাদ কর্মসূচি প্রত্যাহার করতে।
ওই দুই মন্ত্রী বিক্ষোভস্থলে পৌঁছে বন্যার্দের ত্রাণের বিষয়ে অখিল গগৈয়ের বিভিন্ন উদ্বেগ নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেন।
প্রতিবাদ কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেও অখিল গগৈ কিংবা দুই মন্ত্রী এটা জানাননি যে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে কি না।
বন্যার্তদের ত্রাণ সংক্রান্ত দাবি আদায়ের লক্ষ্যে অখিল গগৈ অনির্দিষ্টকালের ‘সত্যাগ্রহ’ শুরু করেছিলেন।
২ অক্টোবর, গান্ধী জয়ন্তী থেকে সত্যাগ্রহ পালন করছেন অখিল। তিনি বন্যার্ত পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং বন্যা বিপর্যয় সম্পর্কিত বেশ কিছু বিষয়ে সরকারকে পদক্ষেপ করতে হবে দাবি জানিয়েছেন।
অখিল জানিয়েছেন, সরকার যদি দুলক্ষেরও বেশি বন্যার্ত পরিবারকে পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেয় তাহলে তিনি আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেবেন।
অখিলের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি মূল্যায়নে প্রায় ৫৫,০০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, অথচ বাস্তবে দুলক্ষেরও বেশি পরিবারের ত্রাণ দরকার। তিনি সরকারি সমীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় গরমিলের অভিযোগ করেছেন।
অখিল গগৈয়ের কথায়, সরকার বলছে বন্যায় মাত্র ৫৫,০০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অথচ প্রকৃত সংখ্যা দুলক্ষেরও বেশি। এই পরিসংখ্যান বিভ্রান্তিকর।
কেন্দ্রের দেওয়া আর্থিক সহায়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অখিল গগৈ। তাঁর দাবি, বন্যার জেরে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা সামাল দেওয়ার জন্য অসম সরকারের ঘোষিত ১,২০০ কোটি টাকা যথেষ্ট নয়।
অখিলের আরও অভিযোগ, অসমের বন্যা বিপর্যয়ের ভয়াবহতা কেন্দ্রীয় সরকারের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরতে রাজ্য সরকার ব্যর্থ হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি মন্ত্রী সুশান্ত বরগোহাঁই, ময়ূর বরগোহাঁই এবং ধর্মেশ্বর কোঁওরের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন।
অখিলের অভিযোগ, ওএনজিসি-র দেওয়া ২০ কোটি টাকা এখনও মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ছাড়া হয়নি।
Next Post