অঙ্কিতার মৃত্যুর প্রতিবাদে ইন্ডিয়া গেটে রাহুল, প্রিয়ঙ্কা

24

নিউজ ডেস্ক: চার বছর আগে খুন হয়েছিলেন উত্তরাখণ্ডের ১৯ বর্ষীয়া অঙ্কিতা ভান্ডারী। তাঁর খুনে মূল অপরাধীকে গ্রেফতারের দাবিতে বহুদিন ধরেই আন্দোলন করছে পরিবার। বুধবার ইন্ডিয়া গেটের সামনে ধর্নায় বসেছিলেন অঙ্কিতার মা-বাবা। বেশি রাতে তাঁদের ধর্নাস্থলে উপস্থিত হন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সহ কংগ্রেস নেতৃত্ব।
১৯ বছরের অঙ্কিতা খুন হয়েছিলেন ২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর। ঋষিকেশের রিসর্টে রিসেপশনিস্টের কাজ করতেন তিনি। কাজে যোগ দেওয়ার ২০ দিনের মাথায় নিখোঁজ হয়ে যান। নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন পর একটি খাল থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অঙ্কিতার পরিবারের অভিযোগ, ওই রিসর্টে ‘যৌন পরিষেবা’ দিতে বাধ্য করা হত অঙ্কিতাকে। ‘ভিআইপি’র সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হয়েছিল। অঙ্কিতা রাজি না হওয়ায় খুন করা হয় বলে অভিযোগ। ওই রিসর্টের ম্যানেজার ছিলেন প্রাক্তন বিজেপি নেতা বিনোদ আর্যের পুত্র পুলকিত আর্য। অঙ্কিতাকে খুনের অভিযোগে এখন তিনি জেল খাটছেন।
অঙ্কিতার পরিবারের অভিযোগ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা তফসিলি জাতি মোর্চার প্রাক্তন সভাপতি দুষ্মন্ত গৌতমের যোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, তদন্তে যে ‘ভিআইপি’র সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের জন্য অঙ্কিতাকে চাপ দেওয়া হয়েছিল, তিনি হলেন দুষ্মন্ত গৌতম। উত্তরাখণ্ডে এনিয়ে কংগ্রেস-সহ অন্যান্য বিরোধী দলও সরব হয়েছিল। কয়েকদিন আগে দুষ্মন্তকেই সিকিমের রাজ্যপাল পদে নিযুক্ত করা হয়েছে। সোমবার দুষ্মন্তের নিয়োগের পরই অঙ্কিতার পরিবার রাহুল গান্ধীর দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বুধবার ইন্ডিয়া গেটের সামনে দুষ্মন্তের নিয়োগের বিরুদ্ধে অবস্থান শুরু করেন।
ভোর ৪টে নাগাদ অঙ্কিতার মা-বাবা এবং আরও কয়েকজনকে আটক করছিল দিল্লি পুলিশ। আটক করা হয় কংগ্রেস সাংসদ পবন খেড়া, কংগ্রেস মুখপাত্র সুপ্রিয়া শ্রীনতে, যুব কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি উদয়ভানু চিব-সহ কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে। পরে অবশ্য সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়।


এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছে কংগ্রেস। সমাজমাধ্যমে মল্লিকার্জুন খাড়গে সরকারকে নিশানা করেছেন। রাহুল গান্ধী বলেছেন, ভোর ৪টে। যখন সারা বিশ্ব ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন অঙ্কিতা ভান্ডারীর বাবা-মাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হল। তাঁদের অপরাধ? তাঁরা ইন্ডিয়া গেটের সামনে শান্ত হয়ে বসেছিলেন ভারাক্রান্ত হৃদয়ে, কোনও হট্টগোল না করে। তাঁদের একটাই দাবি, সিবিআই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত যেন দুষ্মন্ত গৌতমকে সিকিমের রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া না হয়।
এরপর রাহুল জানিয়েছেন, গতকাল প্রিয়াঙ্কা এবং আমি অঙ্কিতার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করেছিলাম। তদন্তের ফলাফল আসার আগেই তড়িঘড়ি করে এই নিয়োগ সম্পন্ন করা হল, আর যাঁরা প্রশ্ন তুললেন, গভীর রাতে তাঁদেরই তুলে নিয়ে যাওয়া হল। এটাই বর্তমান সরকারের বৈশিষ্ট্য: ভুক্তভোগীদের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করে দেওয়া, আর যাঁরা প্রশ্ন করেন তাঁদের সরিয়ে দেওয়া। কিন্তু ন্যায়বিচারের লড়াইকে থামানো যাবে না, স্তব্ধও করা যাবে না। কংগ্রেস অঙ্কিতা ভাণ্ডারির পরিবারের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে, যতদিন না তাঁরা ন্যায়বিচার পান।