নিউজ ডেস্ক: সিয়াং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তপ্ত অরুণাচল প্রদেশ। শুক্রবার অরুণাচলের তিন জেলায় ১২ ঘণ্টার ধর্মঘট চলাকালীন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে আহত ৪ মহিলা। এরপরই বিক্ষোভকারীরা জ্বালিয়ে দেয় পুলিশের ৭টি গাড়ি, আগুন লাগিয়ে দেয় নদীবাঁধ প্রকল্পের পরিচালনায় থাকা এনএইচপিসি কার্যালয়। গোটা রাত ঘেরাও করে রাকা হয় পাসিঘাট থানা। মারিয়াং-গেকু কেন্দ্রের বিধায়কের বাড়িতে ভাঙচুর চালায় বিক্ষোভকারীরা।
অরুণাচল প্রদেশে আপার সিয়াং জেলায় প্রস্তাবিত ১১ হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে কেন্দ্রীয় সরকার জাতীয় প্রকল্প হিসেবে অভিহিত করেছে। এই প্রকল্পের বিরোধিতায় নেমেছে স্থানীয় বেশকিছু সংগঠন। বিক্ষোভকারীরা আটক কর্মীদের মুক্তি, সিয়াং অঞ্চল থেকে নিরাপত্তা বাহিনী প্রত্যাহার এবং প্রস্তাবিত ১১,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রকল্পের সমীক্ষা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে।
প্রস্তাবিত সিয়াং আপার বহুমুখী প্রকল্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে পাসিঘাটে ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন (এনএইচপিসি)-এর কার্যালয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এই অস্থিরতার মধ্যে এক সাংবাদিক আহত হন।
বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরবর্তীতে পাসিঘাটে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। এর পাশাপাশি, ক্ষুব্ধ জনতা পাসিঘাট থানাতেও আগুন লাগিয়ে দেয়।
স্থানীয় জনগণের দাবি যে এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ফলে কৃষি, বাস্তুতন্ত্র, বাড়িঘরের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।
সিয়াং জেলার গেকুর নিকটবর্তী ডিট-ডাইম এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রস্তাবিত বিশাল বাঁধ বিরোধী জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়লে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল।
আপার সিয়াং জেলার গেকু ও কোমকার এলাকা থেকে প্রায় ১৫০-২০০ জন বিক্ষোভকারী সকাল ৭টার দিকে ডিটে-ডাইমে এলাকায় জড়ো হন। পুলিশের দাবি, তাদের হাতে দা, লাঠি ও গুলতি ছিল এবং তারা পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করে, পুলিশের গাড়ি জ্বালিয়ে দেয় এবং পুলিশকে লক্ষ করে পাথর ছোড়ে।
অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েকজন কাঁদানে গ্যাসের শেলে আঘাত পেয়েছে এবং শ্বাসকষ্টে ভুগেছে।
যৌথভাবে বনধের ডাক দিয়েছিল আদি বানে কেবাং ইউনাইটেড, এসইউএমপি প্রভাবিত এলাকার যুব সমিতি, সিয়াং আদিবাসী কৃষক ফোরামের যুব শাখা এবং আদি গালো ওয়েলফেয়ার সোসাইটি।
সরকারের বক্তব্য হলো, এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য সিয়াং অববাহিকায় জল ধরে রাখা ও তা নিয়ন্ত্রণ করা—বিশেষ করে সিয়াং নদীর উজানে চিনের প্রস্তাবিত বিশাল বাঁধ নিয়ে যে উদ্বেগ রয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।