পৃথা দাশগুপ্ত: চোরবাগান সর্বজনীনে বিপর্যয়ের ঘটনায় শোকপ্রকাশ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। আহতদের দেখতে রবিবার সকালে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে যান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে এ দিন কলকাতায় তাঁর বেশ কিছু কর্মসূচি ছিল। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সেই কর্মসূচিগুলি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শাহ। এদিকে চোরবাগানে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। নবমী পর্যন্ত থাকছে ১৬৩ ধারা।
লালবাজারের নির্দেশিকা, চোরবাগান সংলগ্ন রাস্তায় এই ১৬৩- র পাশাপাশি কলেজ স্ট্রিটের কলুটোলা থেকে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ-সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় পাঁচ বা তার বেশি জমায়েতের উপরই নিষেধাজ্ঞা জারি। ঘটনার তদন্তে নেমে ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে লালবাজার। ধৃতদের মধ্যে পুজো কমিটির সম্পাদক, সহ-সভাপতি, বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার দুই আধিকারিক-সহ আরও বেশ কয়েকজন রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এই বিপর্যয়ের পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার পর পুজো উদ্যোক্তা এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে গিরিশ পার্ক থানায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করে লালবাজার। অনিচ্ছাকৃত খুনের চেষ্টা, ষড়যন্ত্র-সহ বিএনএসের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়।

গত রাতের দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন। তাঁরা বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন হাসপাতালে। শনিবার রাতেই আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, দুর্ঘটনায় জড়িত কাউকে রেয়াত করা হবে না। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই ফুটেজে কারও গাফিলতি দেখলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চোরবাগানে দুর্ঘটনার জেরে মৃত ও আহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সাহায্যেরও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের তরফে নিহতদের পরিবার পিছু ২৫ লক্ষ টাকা ও পরিবারের এক সদস্যকে গ্রুপ- ডি পদে চাকরি দেওয়া হবে। আহতদের চিকিৎসার খরচ বহনের পাশাপাশি ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সহযোগিতা করবে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকেও মৃত ও আহতদের পরিবার পিছু যথাক্রমে দু’লক্ষ টাকা ও পঞ্চাশ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হয়েছে।
উত্তর কলকাতার চোরবাগানে সপ্তমীর সন্ধ্যায় ঠাকুর দেখতে উপচে পড়ে ভিড়। বাইরে সে সময় ঝেঁপে বৃষ্টি চলছে। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে দর্শনার্থীরা মণ্ডপের ভিতরে আশ্রয় নিতে শুরু করে। আর তখনই ভিড়ের চাপে ভেঙে পড়ে মণ্ডপের একাংশ। মণ্ডপের ভিতরে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। চোরবাগান বিপর্যয়ের পর বড় পুজোগুলির ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখতে টিম গঠন করা হয়েছে।