নিউজ ডেস্ক: মেরঠ খুনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত মুসকান এবং সাহিলকে মৃত্যুদণ্ড আদালতের। এই রায়ে স্বস্তি পেল সৌরভ রাজপুতের পরিবার। তাঁর মা এবং ভাই বলেন, তাঁরা আদালতের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট। এক বছর অত্যন্ত কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে পরিবারকে। অন্যদিকে, মুসকানের বাবা-মা জানিয়েছেন, আদালত যা শাস্তি দিয়েছে, তার বিরুদ্ধে যাবেন না। যদিও মেরঠ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করার পথ খোলা রয়েছে মুসকান-সাহিলের।
এদিকে, মৃত্যুদণ্ডের রায় শোনার পর থেকেই মুখে কিছু তুলছেন না মুসকান রাস্তোগি এবং সাহিল শুক্ল। জেলকর্তাদের কাছে দুজনের একটাই প্রশ্ন, এখন কী হবে তাঁদের? জেলে সমানে কেঁদে চলেছেন তাঁরা। সূত্রের খবর, মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর মুসকান এবং তাঁর প্রেমিক সাহিলের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। দুজনকেই রাখা হয়েছে কড়া নজরদারিতে। প্রতি মুহূর্তে দুজনের শারীরিক এবং মানসিক অবস্থার উপরও নজর রাখা হচ্ছে। উভয়কেই দেওয়া হয়েছে নতুন কয়েদি নম্বর। সাহিল-৩৯৫ এবং মুসকান-৩৯৬। আলাদা কুঠুরিতে রাখা হয়েছে দুজনকে।
দুসপ্তাহ আগেই আদালত দোষী সাব্যস্ত করে মুসকান এবং সাহিলকে। বিচারক অরবিন্দ কুমার মিশ্র দুজনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। এই মামলায় ১২৬টি শুনানি হয়েছে। সাক্ষ্য দিয়েছেন ২২ জন। গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই জেলে মুসকানের সঙ্গে একবারও দেখা করতে যায়নি তাঁর পরিবার। সাহিলের ঠাকুরমা মাঝেমধ্যে জেলে যেতেন নাতির সঙ্গে দেখা করতে।
রায় ঘোষণার পর বড় সিদ্ধান্ত নিলেন সৌরভ রাজপুতের মা। মুসকানের বড় মেয়েকে দত্তক নিতে চান তিনি। তবে জেলে থাকাকালীন মুসকান যে কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন, তার দায়িত্ব নেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সৌরভের মা। তাঁর দাবি, ছোট মেয়েটি সাহিলের সন্তান। গত বছরের নভেম্বরে জেলে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন মুসকান।
নৌসেনা আধিকারিক সৌরভ ও মুসকানের বিয়ে হয়েছিল ২০১৬ সালে। দুজনের প্রেমের সম্পর্ক থেকেই বিয়ে। বেশ কয়েক বছর সাহিলের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে ছড়িয়ে পড়ে মুসকান। ২০২৩ সালে কর্মসূত্রে বিদেশে চলে যান সৌরভ। ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মেয়ের জন্মদিনে তার সঙ্গে সময় কাটাতে বাড়ি ফেরেন তিনি।
পুলিশের তদন্ত উঠে আসে, ৩ মার্চ রাতে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে সৌরভকে অচেতন করে দেন মুসকান। তারপর সাহিলকে সঙ্গে নিয়ে স্বামীকে খুন করেন। অভিযোগ, সৌরভের দেহের ১৫ টুকরো করে একটি নীল রঙের বড় ড্রামে ভরে সিমেন্ট দিয়ে সিল করেছিল অভিযুক্তরা। কয়েক দিন সৌরভের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে পরিবারের সদস্যরা পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। খুনের ১৪ দিন পর উদ্ধার হয় তাঁর দেহ।