নিউজ ডেক্স : ফরাক্কা চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে দরকষাকষি থেকে বাংলাদেশ যে সরে আসবে না শনিবার ঢাকায় তা স্পষ্ট করে দিলেন বাংলাদেশের মন্ত্রী তথা বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ১৬ মে ছিল ফরাক্কা দিবস। ফরাক্কা দিবস উপলক্ষে ঢাকায় শাসক দল বিএনপি এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল। সেখানেই দিল্লিকে বার্তা দিলেন বিএনপির মহাসচিব। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন ‘ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন থাকবে তা নির্ভর করবে ফরাক্কা চুক্তির উপর।’ এখানেই না থেমে বিএনপির মহাসচিব তথা বাংলাদেশের পুর এবং পঞ্চায়েত মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন ‘ভারতের ফরাক্কা বাঁধ বাংলাদেশের জন্য মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি হওয়ার একটা সুযোগ এসেছে। তবে সেটা নির্ভর করবে ফরাক্কা চুক্তি সম্পাদনের উপর। ভারতের কাছেও আমি সেই আবেদন জানাতে চাই। বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে আমরা কোনও চুক্তি করবো না। আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন।’
উল্লেখ্য ১৯৯৬ সালে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা জল বন্টন নিয়ে ফরাক্কা চুক্তি হয়েছিল। চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়া এবং বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে ৩০ বছরের সেই ফরাক্কা চুক্তির মেয়াদ। তার আগে তাই জল বন্টন চুক্তি নিয়ে সরব হল বাংলাদেশ, মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশের দাবি তাদের ন্যায্য জল দিতে হবে।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণরোষের জেরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন শেখ হাসিনা। তারপর থেকে ভারতেই আছেন তিনি। হাসিনার প্রত্যার্পণ চেয়ে দিল্লিকে বেশ কয়েকবার চিঠিও দেয় মুহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী প্রশাসন। কিন্তু দিল্লি ঢাকার সেই চিঠির উত্তর আজ পর্যন্ত দেয়নি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচনে জিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কুর্শিতে বসেন খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান। বিশেষজ্ঞরা মনে করেছিলেন বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে। কিন্তু হাসিনা ইস্যুর পাশাপাশি এবার ভারতকে অস্বস্তিতে ফেলতে ফরাক্কা ইস্যুতেও সরব হল বাংলাদেশ।