গ্রিক রেস্তোরাঁয় সাক্ষাৎ, প্রথম দর্শনেই প্রেমরাজীবের সঙ্গে প্রেমের গল্প শোনালেন সোনিয়া গান্ধী

27

নিউজ ডেস্ক: ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে কেমব্রিজের একটি গ্রিক রেস্তোরাঁয় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করেছেন সোনিয়া গান্ধী। তাঁদের প্রথম দেখা হওয়া এবং শুরুর দিকের প্রেমের সেই স্মৃতি উঠে এসেছে তাঁর আসন্ন স্মৃতিকথা ‘বিলংগিং: আ জার্নি অফ লাভ’-এ, যা ২০২৬ সালের ১০ নভেম্বর প্রকাশ পাবে।
সমাজমাধ্যম এক্স-এ ভিডিয়ো পোস্ট করে রাজীব গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাতের কথা বলেছেন ৭৯ বর্ষীয়া কংগ্রেস সাংসদ সোনিয়া গান্ধী। ইংল্যান্ডের কেমব্রিজে একটি ছোট গ্রিক রেস্তোরাঁয় আকস্মিক এক সাক্ষাৎ এমন এক সম্পর্কের সূচনা করেছিল, যা সোনিয়া গান্ধীর জীবনকে নতুন রূপ দিয়েছিল।
কয়েক দশক পর, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর সঙ্গে সেই প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করেছেন কংগ্রেস নেত্রী। সেখানে উঠে এসেছে তাৎক্ষণিক ভালো লাগা, পরবর্তী বন্ধুত্ব এবং তাঁদের প্রেমের শুরুর দিনগুলোর কথা।
এসব ঘটনা স্থান পেয়েছে সোনিয়ার আসন্ন স্মৃতিকথা ‘বিলংগিং: আ জার্নি অফ লাভ’ বইতে।

প্রথমে দর্শনেই প্রেম
ভিডিয়োতে সোনিয়া ‘ভার্সিটি রেস্টুরেন্ট’-এ রাজীব গান্ধীর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেছেন। এটি ছিল একটি গ্রিক রেস্তোরাঁ, যা ভারত ও ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিল। এক সাধারণ বন্ধুর মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়, দুই তরুণ শিক্ষার্থীর সেই প্রথম দেখাই পরে পরিণয়ে রূপ নেয়।
সে সময় সোনিয়া ইংল্যান্ডে এমন জায়গার খোঁজ করছিলেন, যেখানে তাঁর পরিচিত খাবারের, বিশেষ করে ইতালীয় খাবারের, স্বাদ পাওয়া যায়। রেস্তোরাঁটি বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পরিচিত মিলনস্থলে পরিণত হয়েছিল।
সোনিয়া বলেছেন, ইংল্যান্ডে খাবার ছিল খুবই বাজে। সেই সময়ে খুব বেশি রেস্তোরাঁও ছিল না। তবে সেই রেস্তোরাঁয় যাওয়াটা তাঁর জীবনে এমন এক স্মৃতি হয়ে রইল, যা পরিচিত খাবারের সন্ধানের গণ্ডি ছাড়িয়ে অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে যায়।
সোনিয়া স্মৃতিচারণ করে বলেন, রাজীবকে প্রথম দেখেই আমি অনুভব করেছিলাম যে, ও এমন একজন মানুষ যার সান্নিধ্যে থাকাটা আমি সত্যিই উপভোগ করব। আর অবশ্যই, আমি জানতে পেরেছিলাম যে তাঁর ক্ষেত্রেও অনুভূতিটা একই ছিল।
রাজীবকে কেবল তাঁর চেহারার জন্যই মনে রাখেননি সোনিয়া, বরং তাঁর মধ্যে কোমলতার জন্যও মনে রেখেছেন, যা শুরু থেকেই তাঁর চোখে পড়েছিল।
তিনি বলেন, রাজীব দেখতে অত্যন্ত ভদ্র ও কোমল স্বভাবের মানুষ ছিলে। অবশ্যই ও খুব সুদর্শন ছিল, তবে তার কোমলতা ও ভদ্রতা বিশেষভাবে ফুটে উঠত। আর এই বিষয়টিই আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল এবং আকৃষ্ট করেছিল।

বন্ধুত্ব থেকে প্রণয়
তাঁদের সম্পর্কের শুরুটা হয়েছিল বন্ধুত্ব দিয়ে। সোনিয়া স্মৃতিচারণ করেন যে, তাঁরা বিভিন্ন পার্টিতে বা ঘুরতে যাওয়ার সময় একসঙ্গে সময় কাটাতেন এবং কেমব্রিজে ছাত্রজীবনের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতাগুলো একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নিতেন। তাঁর মনে পড়ে, অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তিনি ভ্যালেন্টাইনস ডে-র একটি পার্টিতেও অংশ নিয়েছিলেন।
ভিডিয়োতে সোনিয়ার স্মৃতিচারণ এবং পুরনো নথিপত্র থেকে নেওয়া আলোকচিত্রের মাধ্যমে সেই শুরুর দিনগুলোকে তুলে ধরা হয়েছে। এটি এমন এক সম্পর্কের আভাস দেয়, যা গড়ে উঠেছিল সেই রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু থেকে অনেক দূরে— যে রাজনীতি পরবর্তীকালে তাদের জীবনকে ঘিরে ফেলেছিল।
১৯৬৮ সালে সোনিয়া ও রাজীব বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বহু বছর পর, রাজীব ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন এবং ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৯১ সালের মে মাসে তামিলনাড়ুতে নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
‘বিলংগিং: আ জার্নি অফ লাভ’ স্মৃতিকথায় পাঠকরা সোনিয়ার জীবন এবং রাজীবের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের এক ব্যক্তিগত বয়ান খুঁজে পাবেন।
বইটির এই ঝলকে উঠে এসেছে তাঁদের প্রথম সাক্ষাৎ ও শুরুর দিকের প্রেমের গল্প—যেখানে ফুটে উঠেছে সাহচর্য, ভালোবাসা এবং একসঙ্গে গড়ে তোলা তাঁদের জীবনের নানা স্মৃতি।
ইতালিতে জন্মগ্রহণকারী সোনিয়া পরবর্তীকালে কংগ্রেস দলের অন্যতম প্রধান নেত্রীতে পরিণত হয়েছেন।