নিউজ ডেস্ক: অসমের গোয়ালপাড়া জেলার ২১ বাসিন্দার বাড়ি ভেঙে ফেলার বিষয়টি নিয়ে গুয়াহাটি হাইকোর্ট প্রশ্ন তুলেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সরকারের রাজস্ব কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপ আপাতদৃষ্টিতে বেআইনি, অননুমোদিত এবং স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের নীতির পরিপন্থী।
গুয়াহাটি হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাশিস বড়ুয়া এসংক্রান্ত একটি আবেদনের শুনানিতে মন্তব্য করেন, আবেদনকারীদের বাড়িঘর তাঁদের নিজস্ব কৃষিজমিতে অবস্থিত ছিল। সরকারি উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন করেছিলেন জাহিদুল ইসলাম ও আরও ২০ জন।
অসম সরকারের কাছে বাড়িঘর ভাঙার পরিস্থিতির বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে আদালত। এইসঙ্গে সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চেয়েছে যে, ঠিক কী ধরনের আসন্ন বিপদের কারণে এমন কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছে সরকারকে।
আবেদনকারীদের আইনজীবী আদালতে জানান যে, মাটিয়া রাজস্বচক্রের আধিকারিক ৫ সেপ্টেম্বর বাসিন্দাদের নোটিশ পাঠিয়েছিলেন। ওই নোটিশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাড়িঘর ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় অসম ভূমি ও রাজস্ব নিয়ম, ১৮৮৬-র অধীনে সেটেলমেন্ট রুলস-এর ৬ নম্বর বিধি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৫-এর বিধান অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
তবে আইনজীবীর পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, নোটিস জারির মাত্র দুদিন পরেই, ৭ সেপ্টেম্বর ভোরের দিকে, বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হয়, অথচ বাড়ির মালিকদের নিজেদের বক্তব্য পেশ করার কোনও সুযোগই দেওয়া হয়নি।
কর্তৃপক্ষ যেভাবে তাদের ক্ষমতার প্রয়োগ করেছে তা নিয়ে হাইকোর্ট উদ্বেগ প্রকাশ করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই উচ্ছেদ আপাতদৃষ্টিতে বেআইনি ও অননুমোদিত। এবং এটি সংবিধানের ১৪ ও ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় সুরক্ষিত স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের নীতি-র পরিপন্থী।
আদালত উল্লেখ করে যে, এই আইনের ৩(iv) ধারা অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি যদি নিজের বসবাসের জন্য বাড়ি নির্মাণের উদ্দেশ্যে এক বিঘা পর্যন্ত কৃষিজমি ব্যবহার করেন, তবে তাকে ডেপুটি কমিশনারের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আদালতের মন্তব্য, সংশ্লিষ্ট জমি আবেদনকারীদের মালিকানাধীন ‘পাট্টা’ভুক্ত জমি ছিল। আদালত প্রশ্ন তোলে, ঠিক কী ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে কর্তৃপক্ষ এমন কঠোর ক্ষমতার প্রয়োগ করল।
জেলা কমিশনার ও সার্কেল অফিসারের প্রতিনিধিত্বকারী সরকারি আইনজীবীকে নির্দেশ দেওয়া হয় যেন তিনি প্রয়োজনীয় নির্দেশ সংগ্রহ করেন এবং কী ধরনের ‘আসন্ন বিপদ’-এর কারণে এই ভাঙার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে আদালতকে অবহিত করেন।
পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আদালত জেলা কমিশনার ও সার্কেল অফিসারকে আবেদনকারীদের জমির বিষয়ে আর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়।