নিউজ ডেস্ক: অবশেষে দেশে ফিরছে চোল সাম্রাজ্যের অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ। শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেদারল্যান্ডস সফর চলাকালীন, একাদশ শতাব্দীর চোল সাম্রাজ্যের অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ ‘আনাইমঙ্গলম প্লেটস’ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের হাতে তুলে দিল ডাচ সরকার। ২০১২ সাল থেকে ভারত এই ঐতিহাসিক নিদর্শন দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছিল। আগামিদিনে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নতির ক্ষেত্রে এটি একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে বিশ্বের রাজনৈতিক মহল।
মোদীর নেতৃত্বে কূটনৈতিক সাফল্য
বিদেশ সফরের দ্বিতীয় পর্বে শুক্রবার নেদারল্যান্ডস পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী। শনিবার ডাচ প্রধানমন্ত্রী রব জেটেন-এর উপস্থিতিতে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে এই চোল আমলের তাম্রপত্র ( নেদারল্যান্ডসে ‘লাইডেন তাম্রপত্র’ (Leiden Plates) নামে পরিচিত) ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ‘প্রত্যেক ভারতীয়ের জন্য এক আনন্দের মুহূর্ত’ বলে সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ডাচ সরকারের এই পদক্ষেপকে দুই দেশের গভীর কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবেই দেখছেন ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
আনাইমঙ্গলম তাম্রলিপির ইতিহাস
ঐতিহাসিকদের মতে, এই তাম্রলিপি চোল বংশের সম্রাট প্রথম রাজরাজ চোল আমলের। যার সময়কাল ৯৮৫ থেকে ১০১৪ খ্রিস্টাব্দের বলেই মনে করা হয়। সম্রাট প্রথম রাজরাজ চোলের মৌখিক নির্দেশকে লিখিত রূপ দিতে তাঁর পুত্র প্রথম রাজেন্দ্র চোল এই তাম্রপত্রগুলি খোদাই করিয়েছিলেন। এই তাম্রলিপিতে নাগাপট্টিনমের ‘চূড়ামণি বিহার’-এর জন্য ভূমি রাজস্ব ও কর দানের উল্লেখ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই লিপিগুলি তৎকালীন দক্ষিণ ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও ধর্মীয় সহাবস্থান ও সাংস্কৃতিক আদানপ্রদানের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ বহন করে। অষ্টাদশ শতাব্দীতে দক্ষিণ ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ওলন্দাজ বা ডাচ শাসন কায়েম ছিল। সেই সময়েই এটি লুঠ করে নেদারল্যান্ডসে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
আনাইমঙ্গলম তামার লিপিগুলির আকার অত্যন্ত বিশাল। প্রায় ৩০ কেজি ওজনের এই সংগ্রহে ২১টি বড় ও ৩টি ছোট তামার প্লেট রয়েছে। সেগুলি একটি ব্রোঞ্জের আংটি ও চোল রাজবংশের সিলমোহর দিয়ে একসঙ্গে বাঁধা আছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলি শুধুমাত্র প্রশাসনিক নথি নয়, বরং মধ্যযুগীয় দক্ষিণ ভারতের বাণিজ্যিক সমৃদ্ধ ও বিশ্বসংযুক্ত সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল। এতদিন এই অমূল্য ঐতিহাসিক নিদর্শন লাইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত ছিল। এ বার তার ঘরে ফেরার পালা।