নন্দীগ্রাম আসন ছাড়ছেন, ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু

21

১৩ মে, কলকাতা: ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম। দুটি আসন থেকে জয়লাভ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিধানসভায় ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নিলেন তিনি। শপথের পর মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, নিয়ম মেনেই তিনি নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেবেন।

সেইসঙ্গে তিনি এও জানালেন বিধায়ক না থাকলেও নন্দীগ্রামের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতি দেওয়া সমস্ত কাজ তিনিই করবেন। শুভেন্দু বলেন, এর আগে নন্দীগ্রাম থেকে ফিরোজা বিবি বিধায়ক হয়েছিলেন। কিন্তু বিধায়কের হয়ে নন্দীগ্রামের মানুষের কাজ তিনিই করেছেন। এবারও সেভাবেই কাজ করবেন।

নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর। নন্দীগ্রামকেই কেন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন শুভেন্দু অধিকারী? রাজনীতির লোকজন বলছেন, এই সিদ্ধান্তের পিছনে রাজনৈতিক সূদূর পরিকল্পনা রয়েছে। ভবানীপুর থেকে শুভেন্দুর জয়কে হাতিয়ার করেই আগামী দিনে প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস মায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মানসিক এবং রাজনৈতিক চাপে রাখবে বিজেপি। যেভাবে বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন নন্দীগ্রাম নিয়ে সুযোগ পেলেই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষে বিঁধতেন শুভেন্দু অধিকারী।

শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর ধরে রাখার অর্থ আগামী নির্বাচনে ফের এই কেন্দ্র থেকেই কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়বেন নাকি তিনি অন্য কেন্দ্রে সরে যাবেন? তবে তৃণমূল সুপ্রিমো যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন ভোটের প্রচারে এবং পরে বিজেপির কাছে দ্বিমুখী লাভ ঘরে তোলার সুযোগ থাকবে।

বিধানসভা ভোটের আগে ভবানীপুরের জনবিন্যাস নিয়ে বহু কথা হয়েছে। ভবানীপুর যেন এক মিনি ভারত। এখানে দেশের সব প্রান্তের মানুষের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। মূলত অবাঙালিদের একটা গরিষ্ঠ অংশের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনেই ভবানীপুরের অধিকাংশ ওয়ার্ডে পিছিয়ে পড়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই তথ্যকে হাতিয়ার করে তখন থেকেই ভবানীপুরের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর চ্যালেঞ্জ নিয়েছিল বঙ্গ বিজেপি। বিধানসভা নির্বাচনে খোদ অমিত শাহর নির্দেশে সেই ব্যাটন শুভেন্দু অধিকারীর হাতে তুলে দেয় তারা। তারপর ভোটের ফল সকলের জানা। নিজের ওয়ার্ডেই হেরে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ভবানীপুরে আটটি ওয়ার্ডের মধ্যে সাতটিতেই জয় পেয়েছে বিজেপি। এবছর ডিসেম্বরেই কলকাতা পুরনিগমের নির্বাচন রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির এবারের টার্গেট কলকাতা পুরনিগম। শুভেন্দু অধিকারীর ভবানীপুর ধরে রাখার সিদ্ধান্ত সেই লক্ষ্যকেও পুরভোটের ভোটের পালে জোরালো বাতাল দেবে বলেই রাজনীতি সচেতনদের মত। স্বাভাবিকভাবে বলাই যায় নন্দীগ্রাম থেকে শুভেন্দুর বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা অঙ্ক কষেই। অঙ্কফল থাকবে বিজেপির পক্ষেই।