ফুটবল বিশ্বকাপ : ২৫ দিন, ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এর কাউন্টডাউন শুরু

337

চার বছর পর আবার ঘুরে এল FIFA WORLD CUP। ১২ জুন থেকে শুরু হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। কিন্তু ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এর জন্য এখন থেকেই শুরু হয়ে গেছে অপেক্ষা। একাধিক কারণে এবারের বিশ্বকাপ আগের সবকটি সংস্করণের চেয়ে আলাদা।

প্রথমত, এবারই প্রথম বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলছে ৪৮টি দল। তাই প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালের আগে আরও একটা রাউন্ড হবে নকআউটে। রাউন্ড অব ৩২। নকআউটে একটি রাউন্ড বেড়ে যাওয়ায় এবারের বিশ্বকাপে ম্যাচের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যাবে। প্রথম রাউন্ড থেকে ফাইনাল পর্যন্ত এবারের বিশ্বকাপে তাই সবমিলিয়ে ম্যাচ হবে ১০৪টি। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘ ৩২ বছর পর এবার উত্তর আমেরিকায় ফিরেছে ফুটবল বিশ্বকাপ (FIFA WORLD CUP)। কানাডা, মেক্সিকো ও আমেরিকার ১৬টি শহর জুড়ে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলবে বিশ্বকাপ। ৩২ বছর আগে ১৯৯৪ বিশ্বকাপে সেবার আমেরিকা একা আয়োজকের দায়িত্ব পেয়েছিল। এবার সঙ্গে রয়েছে কানাডা এবং মেক্সিকোও। ফলে আরও বেশি ছড়িয়ে যাবে ফুটবল।

তৃতীয়ত, দলের সংখ্যা বাড়লেও প্রথম রাউন্ডে এবারও ছিটকে যাওয়া দলের সংখ্যা হবে ১৬। আগেও যে সংখ্যাটা ছিল ১৬। কারণ, অংশ নেওয়া ৪৮টি দলকে ১২টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে এবং গ্রুপ লিগের পর প্রতিটি গ্রুপের প্রথম দুটো দল তো রাউন্ড অব ৩২-র ছাড়পত্র পাবেই, রাউন্ড অব ৩২-এ যাওয়ার সুয়োগ পাবে আরও আটটি দল। মানে আটটি গ্রুপের তিন নম্বরে শেষ করা দলও নকআউটে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। আগে সে সুযোগ ছিল না।

শেষপর্যন্ত, গ্রুপে তিন নম্বরে শেষ করলেও নকআউটে যাওয়ার সুযোগ থাকছে বলে এবার গ্রুপ থেকেই প্রতিটা ম্যাচ হয়ে উঠবে আরও বেশি হাড্ডাহাড্ডি, আরও বেশি চিত্তাকর্ষক। কারণ, এক-একটি পয়েন্ট এবার হয়ে উঠবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কোনও-কোনও ক্ষেত্রে এক পয়েন্ট নিয়েও নকআউটে চলে যেতে পারে কোনও দল। ঘুরিয়ে বললে গ্রুপ লিগ থেকেই এবারের ফুটবল বিশ্বকাপে শুরু হয়ে যাচ্ছে নকআউটের পালা।

ফুটবল বিশ্বকাপ অভিষেক হচ্ছে চারটি দলের

ক্যাবো ভার্ডে, ক্যুরাক্যাও, জর্ডন এবং উজবেকিস্তানের ফুটবল বিশ্বকাপ (FIFA WORLD CUP) অভিষেক হচ্ছে এবার। আফ্রিকান বিস্ময় ক্যাবো ভার্ডে ক্যামেরুনকে পেছনে ফেলে মূলপর্বে জায়গা করে নেয়। আবার জনসংখ্যা ও আয়তনের দিক থেকে সবেচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে বিশ্বকাপ ফুটবলের মূলপর্বে পৌঁছে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ক্যুরাক্যাও। মাত্র দেড় লক্ষ জনসংখ্যার দেশ ক্যুরাক্যাওয়ের আয়তন ১৭১ বর্গ মাইল। জামাইকা, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো এবং বারমুডার মতো শক্তিশালী গ্রুপে থেকেও যোগ্যতার্জন করে নেয় তারা। ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র দিয়ে শুরু করে দ্বিতীয় ম্যাচে বারমুডাকে ৩-২ গোলে হারিয়ে দেয় ক্যুরাক্যাও। অন্তিম ম্যাচে জামাইকাকেও দু-গোলে উড়িয়ে দেয় ৭৮-এর অ্যাডভোক্যাটের ছেলেরা।

খাতা খোলার লাইনে দাঁড়িয়ে আছে ৯টি দল

কানাডা, হাইতি, ইরাক, নিউজিল্যান্ড, কাতার এবং অভিষেক করা চারটি দল ক্যাবো ভার্ডে, ক্যুরাক্যাও, জর্ডন ও উজবেকিস্তান সহ ৯টি দলের সামনে রয়েছে বিশ্বকাপে (FIFA WORLD CUP) প্রথম জয়ের হাতছানির সুযোগ। কাতার (২০২২), ইরাক (১৯৮৬) ও হাইতি (১৯৭৪) এর আগে একবার করে যোগ্যতার্জন করলেও বিশ্বকাপের কোনও ম্যাচ জিততে পারেনি। আবার ১৯৮২ এবং ২০১০, দুবার ফুটবল বিশ্বকাপের যোগ্যতার্জন করলেও এখনও জয় অধরা কিউইদের। তিনটি করে ড্র এবং হার জুড়ে আছে তাঁদের নামের সঙ্গে। আবার ১৯৮৬ ও ২০২২ দুবার বিশ্বকাপের যোগ্যতার্জন করে কানাডা এবং সবকটা ম্যাচই হারে তারা।

১২ জুন উদ্বোধন, ফাইনাল ১৯ জুলাই

১২ জুন উদ্বোধনী ম্যাচে ঘরের মাঠে দক্ষিণ-আফ্রিকার মুখোমুখি হবে অন্যতম আয়োজক মেক্সিকো। ম্যাচ হবে মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে। টুর্নামেন্টের ফাইনাল ১৯ জুলাই। নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে।

নেই ইতালি, ৮০-র বাইরে থেকেও খেলছে নিউজিল্যান্ড, হাইতি, ক্যুরাক্যাও

উল্লেখ্য, ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৮৫ নম্বরে থেকেও বিশ্বকাপের যোগ্যতার্জন করে নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। ৮৩ নম্বরে থেকে যোগ্যতার্জন করে নিয়েছে হাইতি এবং ৮২ নম্বরে থেকেও বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলছে ক্যুরাক্যাও। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, উরুগুয়ে সহ প্রাক্তন চ্যাম্পিয়নদের সবাই রয়েছে এবারের বিশ্বকাপের আসরে। নেই শুধু ইতালি। না, ৪৮ দলের বিশ্বকাপেও জায়গা করে নিতে পারেনি চারবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালি।

ভারতে বিশ্বকাপের সব ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার!

ভারতীয় সময় অনুযায়ী বিশ্বকাপের (FIFA WORLD CUP) ম্যাচগুলো রাত সাড়ে বারোটা, ভোর সাড়ে তিনটে, সকাল সাড়ে ছটা ও সাড়ে সাতটায় হবে। কিন্তু বিশ্বকাপের সবকটা ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার এদেশে হবে কিনা এটা পুরোপুরি নিশ্চিত নয় এখনও। তবে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে শুরু করে ফাইনাল পর্যন্ত সাতটি ম্যাচ প্রসার ভারতী সরাসরি সম্প্রচার করবে এটা নিশ্চিত হয়ে গেছে। উদ্বোধনী ম্যাচও দেখাবে প্রসার ভারতী। বিশ্বকাপের প্রচার স্বত্ব নিয়ে এখনও কথা চলছে জিওস্টার ও ফিফার মধ্যে। ঘরে বসে বিশ্বকাপের সবকটা ম্যাচ সরাসরি দেখা না গেলে এরেচয়ে বড় বিড়ম্বনা আর কি হতে পারে।