নারায়ণ সরকার, মালদহ: পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই বিএসএফ-কে জমি দেওয়ার কাজ শুরু করেছে বিজেপি সরকার। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণ ও নিরাপত্তা জোরদার করতে এবার মালদহের হবিবপুর ব্লকের সীমান্তবর্তী এলাকায় জমি জরিপের কাজ শুরু হল।

ভবানীপুর, কেদারিপাড়া ও মাদ্রাসি ডাঙ্গা এলাকায় জোর কদমে চলছে জমি অধিগ্রহণের কাজ। ইতিমধ্যেই সীমান্তবর্তী এলাকায় জমির মাপজোক শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে যান হবিবপুর বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক জুয়েল মুর্মু। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক, ভূমি রাজস্ব দফতরের আধিকারিক দেবাহুতি ইন্দ্র, হবিবপুর ব্লকের ভূমি আধিকারিক এবং জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা।
নদীপথে নৌকায় করে তাঁরা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের একেবারে জিরো পয়েন্ট এলাকায় পৌঁছন। সেখানে জমি অধিগ্রহণ ও সীমান্ত সুরক্ষা সংক্রান্ত কাজ খতিয়ে দেখেন। প্রশাসন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই প্রায় ২৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। মোট ২৬০ একর জমি অধিগ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

হবিবপুরের সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা পাচু হালদারের বক্তব্য, কাঁটাতার হলে গরু চুরি, ফসল চুরি বন্ধ হবে। সরকার টাকা দিলে জমি দিতে তাঁদের আপত্তি নেই। আগেও জমি দিতে চেয়েছিলেন। এখনও দিয়েছেন। মালদহের অতিরিক্ত জেলাশাসক দেবাহুতি ইন্দ্র জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ২৫ একর জমি অধিগ্রহণ হয়েছে হবিবপুর ও কালিয়াচক এলাকা মিলিয়ে। কৃষকরা স্বেচ্ছায় জমি দিচ্ছে। কালিয়াচকে জমি পরিদর্শনের কাজ শেষ হয়েছে। এবার অফিসিয়াল কাজ হচ্ছে। হবিবপুরের বিজেপি বিধায়ক জুয়েল মুর্মু সীমান্তবর্তী এলাকায় কাঁটাতার বসানোর কাজে গতি আসায় মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে সেই জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে। সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণ, নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এদিন বিধায়ক ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা কাজের অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দ্রুততার সঙ্গে সমস্ত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন।