নিউজ ডেস্ক: দেশের প্রধান বিচারপতির এজলাসে একটি মন্তব্য থেকে ব্যঙ্গ করেই জন্ম হয়েছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janata Party)। দ্রুত তার X হ্যান্ডলে অফিসিয়াল পেজটি ২ লক্ষ ফলোয়ার হয়ে যায়। ৬ লক্ষের বেশি মানুষ এই সিজেপি দলে যোগ দিতে রেজিস্ট্রেশন করেন। এই প্রদিবেদন লেখার সময় ইনস্টাগ্রামে সিজেপি-র ফলোয়ার ১৪.৮ মিলিয়ন ফলোয়ার। যেখানে এই প্রতিবেদন লেখার সময় ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)-র ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার ৮.৮ মিলিয়ন। অর্থাৎ, সিজেপির থেকে প্রায় ৬ মিলিয়ন কম ফলোয়ার বিশ্বের বৃহত্তম এই রাজনৈতিক দলের। এই ককরোচ জনতা পার্টির স্রষ্টা অভিজিত ডিপকে তাঁর এক্স হ্যান্ডলে জানান সিজেপি-র অফিসিয়াল পেজটি ভারতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে বৃহস্পতিবার। এক্স হ্যান্ডলের তরফে জানানো হয়েছে,
একটি নির্দিষ্ট দেশের কোনও সরকারি সংস্থা বা আইনি ক্ষমতা রয়েছে, এমন প্রতিষ্ঠানের তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও নির্দেশ এলে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্টটি সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয় না। শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট দেশের ব্যবহারকারীরা যাতে অ্যাকাউন্টটির কনটেন্ট দেখতে না পান, তার ব্যবস্থা করা হয়। যাতে স্থানীয় আইন অমান্য না হয়, তা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন কর্তৃপক্ষ। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মানুষ অ্যাকাউন্টটি দেখতে পাবেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা ব্লক শুধুমাত্র সেই নির্দিষ্ট দেশ বা এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে, যেখানকার সরকার বা আইনি কর্তৃপক্ষ এই নির্দেশ দিয়েছেন অথবা যেখানে অ্যাকাউন্টটির কনটেন্ট স্থানীয় আইন ভেঙেছে।’

১৬ মে চালু করা এই সিজেপি দলের স্রষ্টা অভিজিৎ আমেরিকার বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাবলিক রিলেশন বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি করেছেন। সিজেপি-র এক্স হ্যান্ডলে লেখা, ‘অলস ও বেকারদের শব্দ’।
সিজেপি-র কী কী দাবি:
দেশের প্রধান বিচারপতিদের অবসরের পর রাজ্যসভায় পাঠানো যাবে না।
লোকসভায় বর্তমান আসন সংখ্যাতেই নারীদের জন্য ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ দিতে হবে।
দলত্যাগীদের উপর ২০ বছরের নিষেধাজ্ঞা।
দেশের প্রধান বিচারপতির মন্তব্য নিয়ে আলোড়ন পড়ে যায়। যুবকদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এই পরিস্থিতি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত অবশ্য পরে জানান, তাঁর বক্তব্যকে ভুল ভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তিনি বিশেষভাবে ‘ভুয়া ও জাল ডিগ্রিধারী’ ব্যক্তিদের কথা বলছিলেন, বৃহত্তর অর্থে ভারতের যুবসমাজকে নয়। যদিও প্রধান বিচারপতির এই ব্যাখ্যার আগেই কার্যত সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় ওঠে। সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মেই গড়ে ওঠা ককরোচ জনতা পার্টিতে যোগদান করতে চান তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদরা।
ককরোচ জনতা পার্টিতে যোগদানের যোগ্যতাও বেশ ব্যঙ্গাত্মক:
সিজেপির সদস্যকে অলস হতে হবে
বেকার হতে হবে
পেশাদার ভাবে বাতেলাবাজ হতে হবে
২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে আম আদমি পার্টির সমাজমাধ্যমের শাখার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন অভিজিৎ। তিনি জানান, দেশের যুবসমাজের ভাবনা, তাঁদের প্রতিবাদ তুলে ধরতেই নতুন প্ল্যাটফর্ম গড়ার ভাবনা মাথায় আসে তাঁর।