বঙ্গে ক্ষমতার বদল, সৌরভেরও ভোলবদল!

28

কলকাতা:বাঙালির গর্ব সৌরভ গাঙ্গুলি। বাইশ গজে ও তার বাইরে ক্রিকেট মেধা নিয়ে রা কাড়ার জো নেই। কিন্ত রাজনৈতিক ও ব্যক্তি জীবনে তিনি কেমন? পরিচিত এবং ঘনিষ্ঠ মহলে তা নিয়ে চর্চায় প্রত্যাশার ধারে কাছেও নাকি তিনি নেই। এমনটাই শোনা যায়। কেউ কেউ সৌরভ গাঙ্গুলিকে অতি বড় ‘স্বার্থপর’ বলতেও দ্বিধা করেন না।

বাংলায় একটি কথা আছে, যা রটে তার কিছুটা বটে। সত্যিই কী তাই? সম্প্রতি একটি ঘটনা ঘিরে সামাজিক মাধ্যম হয়ে নানা ঠেকের আলোচনায় ফের দাদা সৌরভ গাঙ্গুলি।

এক সময় বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সৌরভ গাঙ্গুলির দহরম-মহরম ছিল তা সর্বজনবিদিত। বিসিসিআই-এর মাথায় বসার পিছনের দরজা কী ছিল তা নিয়ে লোকমুখে কথা চাউর হয়েছে। বিসিসিআই-এর প্রশাসনে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পুত্র জয় শাহের সঙ্গে সৌরভের জুটি যেন জয়-বীরুর কাহানি। কলকাতায় বয়ে এসে সৌরভের বাড়িতে খোদ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও পাত পেড়ে খেয়ে গিয়েছেন। কিন্তু তারপর কী যে হল, হঠাৎ মধুচন্দ্রিমায় ছেদ। উল্টোদিকে দেখা যায় ক্রমশ রাজ্যের তৃণমূল সরকারের আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন বাংলার দাদা খেলুড়ে সৌরভ গাঙ্গুলি। বিদেশের মাটি থেকে খোদ তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়ের ‘অনুপ্রেরণায়’ শিল্পপতি হিসেবে আত্মপ্রকাশও করেছেন তিনি। রাজনীতির বাধ্যবাধকতা কাউকে ছেড়ে কথা বলে না। মধুচন্দ্রিমা কার্যত শেষ হওয়ার পর বিজেপি শিবিরের কটাক্ষ, আক্রমণ, তোপ বা আর যা যা আছে তার কিছু থেকেই বাদ যায়নি সৌরভ। দাদাকে সুযোগ পেলেই হুল ফোটাতেন বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতারাও।

বুধবার ইডেনে কলকাতা ও মুম্বইয়ের ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলেন বিজেপি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু সমাজ মাধ্যমে মন্ত্রীর একটি পোস্ট ঘিরে ফের আলোচনার শীর্ষে আমাদের দাদা সৌরভ গাঙ্গুলি। মন্ত্রীর পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে সিএবি সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি উত্তরীয় পরিয়ে দিলীপ ঘোষকে সংবর্ধনা জানাচ্ছেন। এই ছবি ঘিরেই সামাজিক মাধ্যমে ফের ট্রোলের মুখে আমাদের দাদা।

সমাজ মাধ্যমে রীতিমতো দাদার সঙ্গে বিজেপির কাছে-দূরের অম্লমধুর সম্পর্কের একটি টাইম লাইনও ঘুরছে। সেখানে বলা হচ্ছে,
২০২০ সাল সৌরভ গাঙ্গুলিকে দলে যোগ দেওয়ার আহ্বান বিজেপির
প্রস্তাবে কান দিলেন না দাদা
এরপর এল বিসিসিআই সভাপতি হওয়া ডাক
সম্মতি দিলেন সৌরভ
বিসিসিআই সভাপতিত্ব যাওয়ার পর ফের সিএপি সভাপতি হতে আহ্বান বিজেপির
এই ডাকে সাড়ে দিলেন দাদা
এরপর বঙ্গে তৃণমূলের হিংসা নিয়ে সরব হতে বিজেপির অনুরোধ সৌরভকে
নাকচ করে দিলেন দাদা
তৃণমূলের পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি নিয়ে সরব হওয়ারও আহ্বান বিজেপির
সেই ডাকেও না বলে দিলেন সৌরভ
এরপর শাসকের মুসলিম তোষণ নিয়ে সরব হওয়ার আহ্বান
ফের না করলেন সৌরভ গাঙ্গুলি
২০২৫-এ বাংলা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাতে দলে ফের যোগদানের আহ্বান বিজেপির
ফের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করলেন দাদা
২০২৬-এ ক্ষমতার হাত বদল হতেই দিলীপ ঘোষকে সংবর্ধনা কুশলী অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলির

সব শেষে এই টাইমলাইনে একটি শব্ধ জুড়ে দেওয়া হয়েছে যা সামাজিক মাধ্যমেই আগেও দেখা গিয়েছে।
সৌরভ গাঙ্গুলি স্বার্থপর, সর্বকালীন সুবিধাবাদী।

সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্য থেকে জন্ম নেওয়া ‘আরশোলা পার্টি’ নিয়ে এই মুহূর্তে সামাজিক মাধ্যমে জোর হইচই। মূলত কোনও একটি বিষয় বা ইস্যুতে সমাজ মাধ্যমে ট্রোল হওয়া এখন আম-বাত হয়ে গিয়েছে। কাকে, কেন, কোন পরিস্থিতিতে তা করা হচ্ছে তা দেখে না নতুন প্রজন্ম। মূলত এই বিষয়টিকেই ইঙ্গিত করতে চেয়েছিলেন শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি। তার পরিণতি কী, এখন সকলের জানা। দাদা কী বলেন? অপেক্ষা রইল।