জনি ভট্টাচার্য, কুমারঘাট: রান্নার গ্যাসের আকাল পড়েছে। তারই মধ্যে চোরাচালান সন্দেহে ত্রিপুরার কৈলাসহরে জনতার হাতে আটক ই-রিকশা বোঝাই গ্যাস সিলিন্ডার। পরে প্রশাসনের কর্তাদের ডেকে সিলিন্ডার হস্তান্তর। তবে, সিলিন্ডার পাচারের অভিযোগ অস্বীকার ই-রিকশা চালকের। ঘটনাটি নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে দেখা দিয়েছে দেশ জুড়েই রান্নার গ্যাসের সঙ্কট। গ্যাসের সিলিন্ডারের আকালে জেরবার সাধারণ মানুষ। বুকিং করেও দিনের পর দিন মিলছে না সিলিন্ডার। পাশাপাশি বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম একলাফে বেড়েছে প্রায় হাজার টাকা। অভিযোগ, যুদ্ধ পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করে গ্যাসের কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করা হচ্ছে অনেক জায়গায়। শুরু হয়েছে ব্যাপক কালোবাজারি। এই আবহে ত্রিপুরার কৈলাসহরে জনতার হাতে আটক ই-রিকশা বোঝাই এলপিজি সিলিন্ডার।
সিলিন্ডারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাড়িয়েও ব্যর্থ হতে হচ্ছে গ্রাহকদের। অন্যদিকে, বেশি টাকা দিয়ে ঘরে বসেই সিলিন্ডার পেয়ে যাচ্ছে একাংশ মানুষ। এই অভিযোগ নিয়ে কিছুদিন ধরেই চাপা ক্ষোভ ছিল মানুষের মধ্যে। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার ঊনকোটি জেলার কৈলাসহরে জনতার হাতে আটক হল নথিপত্রহীন বেশ কিছু এলপিজি সিলিন্ডার। প্রথমে ৬টি সিলিন্ডার আটক করা হয়। কিছুক্ষণ পরই ফের ১৪টি সিলিন্ডার বোঝাই একটি ই-রিকশা ধরা পড়ে কৈলাসহরের লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কুবঝাড়ে। এলাকার বাসিন্দারা ই-রিকশাটিকে আটক করে কাগজপত্র দেখতে চাইলে দেখাতে পারেননি চালক। স্থানীয় বাসিন্দা শানু চৌধুরী অভিযোগ করেন, বেশ কিছুদিন থেকেই টিলাবাজার গ্যাস এজেন্সি থেকে কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার।
সিলিন্ডার আটকের বিষয়টি স্বীকার করেন ই-রিকশা চালক প্রশান্ত দেব। তবে, সিলিন্ডারগুলো অবৈধ নয় বলে দাবি তাঁর। ই-রিকশা চালকের দাবি, বাড়ি বাড়ি সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হয় গাড়িটি। তবে, গাড়িতে বোঝাই সিলিন্ডারের সপক্ষে কোনও নথিপত্র দেখাতে পারেননি ই-রিকশা চালক।
এদিনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। রান্নার গ্যাসের তীব্র অভাবের সুযোগ কাজে লাগিয়ে কালোবাজারির অভিযোগ নতুন নয়। এই সঙ্কটকালে এলপিজির সুষ্ঠু সরবরাহে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি উঠেছে।