নিউজ ডেস্ক: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বজ্র আঁটুনি ভোট হয়েছে। তাতেও কারচুপি রোখা যায়নি। অভিযোগ উঠেছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় অধিকাংশ বুথে কোথাও ইভিএমে টেপ, কোথাও সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে ভোট করার অভিযোগ উঠেছিল। কাঠগড়ায় তোলা হয় ২৯ এপ্রিল ভোটের আগে তৃণমূলের প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে। সেই ফলতায় বৃহস্পতিবার পুনর্নির্বাচন হল। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার ভোট দিতেই যাননি জাহাঙ্গির খান।
সকাল থেকেই ভোট দিতে লম্বা লাইন পড়ে যায়। পূর্বের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবার কোনো রকম ঝুঁকি নেয়নি। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে এবার গোটা ফলতা জুড়েই নজিরবিহীন সুরক্ষাকবচ তৈরি করা হয়। ৩৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট প্রক্রিয়া চলে ফলতায়। বেলা যত বেড়েছে ভোটদানের হারও বেড়ে যায়।
বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটের হার ৮৬.১১ শতাংশ। লড়াইয়ে দেখা গেল না তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে। পুনর্নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেন তিনি। অবশ্য জাহাঙ্গির যখন এই ঘোষণা করেন, তখন মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় পেরিয়ে গিয়েছে। সুতরাং, নির্বাচনে না-থাকলেও ইভিএম-এ জাহাঙ্গিরের নাম এবং তৃণমূলের প্রতীক থাকে নিয়মানুযায়ী। ২৯ এপ্রিল ভোটের আগে তিনি নিজেকে ‘পুষ্পা’ বলে দাবি করেছিলেন। এবার পুনর্নির্বাচনের আগে ভোটের ময়দান থেকেই সরে গেছে ফলতার ‘ত্রাস’ জাহাঙ্গির। সেই ফাঁকা মাঠে কার্যত গোল দেবে বিজেপি। ভোটের প্রচারে ২৯ এপ্রিলের ফলতার বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার উদ্দেশে তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের হুঁশিয়ারি ছিল, ৪ মে-এর পর বিজেপি প্রার্থী মাছ কাটাবেন। যদিও পুনর্নির্বাচনের আগে এই এলাকায় প্রচারেই যাননি অভিষেক।
ভোটগ্রহণের দিনই ফলতার দাদাগিরি করা তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের ‘ডান হাত’ বলে পরিচিত সইদুলকে গ্রেফতার করে ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ। গত ৪ঠা মে বিজেপির বিজয় মিছিলে নৃশংস হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখেই এই গ্রেফতারি বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
কেন ফলতায় পুনর্নির্বাচন হচ্ছে?
গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন ফালতার একাধিক বুথ থেকে ইভিএমের বোতামে সেলোটেপ বং সুগন্ধি লাগিয়ে দেওয়ার মতো নজিরবিহীন কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল। তৎকালীন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত স্বয়ং এলাকা পরিদর্শন করে প্রায় ৬০টি বুথে ইভিএম টেম্পারিং বা কারচুপির প্রমাণ পান। এছাড়া বুথের ভেতরের সিসিটিভি ক্যামেরা ও ওয়েবকাস্টিংয়ের ফুটেজও নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। পোলিং অফিসার ও বুথ স্তরের আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এরপরেই নির্বাচন কমিশন পুরো ফালতা কেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল করে সমস্ত বুথেই পুনর্নির্বাচনের কড়া নির্দেশ দেয়। আগামী ২৪ মে এই কেন্দ্রের ভোটগণনা।