প্রধানমন্ত্রীর আবেদন সাড়া গুয়াহাটি হাইকোর্টের

8

নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রীর কৃচ্ছ্রসাধনের আবেদনে সাড়া দিয়ে নতুন পদক্ষেপ নিল গুয়াহাটি উচ্চ আদালত। শুধু গুয়াহাটি হাইকোর্টেই নয়, এর অধীনস্থ উত্তর-পূর্বের সব আদালতেই নতুন ব্যবস্থা চালু হয়েছে।

নতুন নির্দেশিকায় গুয়াহাটি উচ্চ আদালত জানিয়েছে যে সোম থেকে শুক্র সব শুনানি হবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে। এর ফলে বাঁচবে জ্বালানি এবং বৃদ্ধি পাবে আদালতের কার্যকারিতা। জ্বালানি বাঁচানোর লক্ষ্যে গুয়াহাটি হাইকোর্টের সব বিচারপতিকে অনুরোধ করা হয়েছে সম্ভব হলে কার-পুলিং ব্যবস্থায় আসাযাওয়া করতে। এ ছাড়া আদালতের কাজে গাড়ি ব্যবহারেও বিভিন্ন বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।

নতুন বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ও আইনি বিভাগের ৫০ শতাংশ কর্মী আদালতে আসবেন একদিন অন্তর। তবে আদালতের সাধারণ কর্মীরা এর আওতায় পড়বে না। এইসঙ্গে জোর দেওয়া হয়েছে ই-অফিস প্ল্যাটফর্মে। সব প্রশাসনিক ফাইল এবং এই সংক্রান্ত যোগাযোগ তুলে রাখতে হবে ডিজিটালে। যেসব কর্মী রোস্টার ব্যবস্থায় কর্মরত অথচ শারীরিকভাবে আদালতে আসে না, তাদের সবসময় টেলিফোন বা মোবাইলে সক্রিয় থাকতে হবে। যদি প্রয়োজন পড়ে দ্রুত আসতে হবে কার্যালয়ে।

তবে ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম ব্যবস্থা কার্যকর হবে না প্রটোকল বিভাগ, ফাইলিং বিভাগ, কপিয়িং বিভাগ, বেঞ্চ বিভাগ, কম্পিউটার বিভাগ ও ই-কোর্ট বিভাগের ক্ষেত্রে। এই নির্দেশিকা অসম, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম ও অরুণাচল প্রদেশের সব জেলা আদালতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। জেলা বিচারপতি, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সাব-ডিভিশনাল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ট্রাইব্যুনালের প্রিসাইডিং অফিসার ও স্পেশাল কোর্টকেও এই ধরনের বিধি জারি করতে নির্দেশ দিয়েছে গুয়াহাটি হাইকোর্ট। এ ছাড়া, জুডিশিয়াল অ্যাকামেডির সব প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও চলবে ভার্চুয়াল বা অনলাইন মাধ্যমে। এই বিধি বলবৎ থাকবে ২৫ মে থেকে ২৬ জুন ২০২৬ পর্যন্ত।

কয়েকদিন আগে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ঘোষণা করেছিলেন যে জ্বালানি বাঁচাতে আগামী ছয় মাস সরকার বিভিন্ন বিধি মেনে চলবে। ৬ মাস নতুন কোনও গাড়ি কিনবে না অসম সরকার। আগামী ৬ মাস কোনও সরকারি কর্মী বিদেশে যেতে পারবে না। রাজ্যপাল সহ মন্ত্রীর কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা হ্রাস হবে। সরকারের জ্বালানি খরচ ২০ শতাংশ হ্রাস করা হবে। আগামী ৬ মাস বিদেশি সামগ্রী কিনবে না সরকার। আগামী ৬ মাস অসমে সরকারি সম্মেলন, কর্মশালা বন্ধ।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী আবেদন করেছিলেন, ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহণ, কার-পুলিং বা বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহার করতে। যতটা সম্ভব ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করতে এবং ভার্চুয়াল মিটিংয়ে অংশ নিতে। অন্তত এক বছরের জন্য সোনা কেনা থেকে বিরত থাকতে। অতি প্রয়োজন ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ ও বিদেশে ছুটি কাটানো বন্ধ রাখতে।