পুশব্যাক নিয়ে হিমন্তর সমালোচনা অখিলের

23

নিউজ ডেস্ক: সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিকদের পুশব্যাক নিয়ে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার কড়া সমালোচনা রাইজর দলের প্রধান অখিল গগৈয়ের। শিবসাগরের বিধায়ক অখিল বলেন, যেসব পুশব্যাক করা হচ্ছে তার কোনও আইনি বৈধতা নেই এবং ইস্যুহীন বিষয়কে রাজনৈতিক ইস্যু করা হচ্ছে।
অখিল গগৈয়ের মতে, পুশব্যাক বিষয়টিকে হিমন্ত জিইয়ে রাখতে চান যাতে অসমে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বিতর্ক চলতে থাকে, নথিহীন অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে আইনি কোনও বিষয় মানা হচ্ছে না।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এমন একজন রাজনীতিক যিনি আপাত নিরীহ বিষয়কেও ইস্যু করে তুলতে জানেন। অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সমস্যা সমাধান হতে পারে একমাত্র বাংলাদেশের সঙ্গে কথাবার্তার পর। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সঙ্গে অসম সরকারের এবিষয়ে কোনও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়নি, এমনকি এমন কোনও প্রক্রিয়াও তৈরি করা হয়নি যাতে অবৈধ বাংলাদেশিদের সঠিকভাবে তাদের দেশে পাঠানো হবে, বলেছেন অখিল গগৈ।
অখিলের দাবি যে অসমে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বড় সমস্যা, কিন্তু সরকারের পুশব্যাক নীতির কোনও আইনি বৈধতা নেই। এরপরই হিমন্ত বিশ্ব শর্মার কড়া সমালোচনা করে অখিল বলেন, মুখ্যমন্ত্রী পুশব্যাক কৌশলের মাধ্যমে একটা ভুল নীতি গ্রহণ করেছেন যার কোনও আইনি বৈধতা নেই। আমার দাবি, ভারত সরকার অবিলম্বে এই বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করুক এবং একটা চুক্তিতে আসুক। ভারতের মতো একটা দেশ, আমাদের উচিত নিশ্চিত করা যে বাংলাদেশ তাদের দেশের নাগরিকদের আমাদের দেশ থেকে ফিরিয়ে নেবে।
ছয় জনজাতির তফশলি মর্যাদার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে। এপ্রসঙ্গে অখিল গগৈ স্মরণ করিয়ে দেন যে ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বঙাইগাঁওর জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আশ্বাস দিয়েছিলেন এই বিষয়টির আশু সমাধান হবে। অখিল বলেছেন, এখন ২০২৬, প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেওয়ার পর ১০ বছর কেটে গেছে, কিন্তু তাই আহোম, চুটিয়া, মরান, মটক, কোচ-রাজবংশী এবং চা-জনজাতি সম্প্রদায় এখনও তফশিলি মর্যাদা পায়নি। প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণ করুন, এটাই দাবি।
এবিষয়ে একটি কমিটি গড়ার কথা বলেছে সরকার। অখিলের মতে, কোনও কমিটির দরকার নেই। তিনি বলেন, ২০১৯ সালে এই ছয় গোষ্ঠীকে তফশিলি মর্যাদা প্রদানের জন্য বিল পাশ হয়ে গেছে। সরকার এখন সেই বিল আনুক এবং প্রতিশ্রুতি পূরণ করুক।
যন্তরমন্তরে ১৫ দিন হয়ে গেল অনশন করছেন লাদাখের পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। এবিষয়ে অখিল গগৈ বলেছেন, ওয়াংচুকের শারীরিক পরিস্থিতি দিনকে-দিন খারাপ হচ্ছে। আমরা চাই না তাঁর কোনও ক্ষতি হোক। সোনমের কিছু হলে গোটা দেশে অস্থিরতা তৈরি হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত এবিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা।
এরপরই তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁস নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের সঙ্গে কথা বলুন প্রধানমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করুন, নিশ্চিত করুন যে কোনও প্রশ্ন আর ফাঁস হবে না, ভারতের পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না।