নিউজ ডেস্ক: অসমের কাজিরঙা জাতীয় উদ্যানে এবছর সবচেয়ে বেশি পর্যটক এসেছে। যার ফলে অসম সরকার ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের কাছে বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেল নির্মাণ সহ বিভিন্ন পর্যটন পরিকাঠামো সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবিষয়ে মন্ত্রী অতুল বরা বলেন, কাজিরঙায় এবছর দেশি ও বিদেশি পর্যটকরা প্রচুর সংখ্যায় এসেছেন। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ভুটানের রাজা সফর করেছেন কাজিরঙা জাতীয় উদ্যানে। এর ফলে গোটা বিশ্বের অন্যতম পর্যটন গন্তব্য হয়ে উঠেছে কাজিরঙা।
অতুল বরা বলেছেন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এমনকি ভুটানের রাজা কাজিরঙা ঘুরে দেখেছেন। কাজিরঙায় বার্ষিক পর্যটকের সংখ্যা হিসেবে করে দেখেছি, এবছর সবচেয়ে বেশি পর্যটক এসেছে। পর্যটকদের সুবিধার জন্য অসম সরকার দুটি বিলাসবহুল হোটেল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হায়াত ও তাজ গ্রুপের দুটি হোটেল হবে কাজিরঙায়।
এইসঙ্গে মন্ত্রী অতুল বরা বলেছেন, কাজিরঙায় সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অর্কিড পার্কের উদ্বোদন হয়েছে। এর ফলে আরও বেশি পর্যটক আসছে কাজিরঙায়। এ ছাড়া, অসম সরকার চা-বাগান এলাকায় তিনটি চা-সংগ্রহশালা তৈরি করবে। অসমের ঋদ্ধ চা-সংস্কৃতি উপস্থাপন করা হবে সেখানে। স্বাভাবিকভাবে আরও পর্যটক আসবে চা-সংগ্রহশালা দেখতে।
এদিকে, কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানের কাছে প্রস্তাবিত বিলাসবহুল হোটেল প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে বেশকিছু সংগঠন। যার জেরে ১২ জুলাই অসমের সমাজকর্মী ও আদিবাসী অধিকার রক্ষা কর্মী প্রণব দোলেকে কে দিশপুর পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে তাঁকে বোকাখাত পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রণব দোলে পুলিশের হেফাজতে আছেন।
কাজিরাঙার ইঙ্গলেপাথার এলাকায় পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলে বিলাসবহুল হোটেল ও রিসর্ট নির্মাণের বিরোধিতায় প্রণব দোলে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন। তাঁর দাবি,, এই প্রকল্প পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করবে এবং স্থানীয় আদিবাসীদের অধিকারে হস্তক্ষেপ করবে।
প্রণব দোলের গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বুদ্ধিজীবী, ছাত্র সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীরা। অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি গৌরব গগৈ এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করেছেন যে সরকার বিরোধী কণ্ঠস্বর ও গণতান্ত্রিক অধিকারকে দমন করার চেষ্টা করছে।
Next Post