নিউজ ডেস্ক: অসমে চলতি বন্যায় প্রাণ হারিয়েছে ৮৯ জন। শিবসাগরের বিহুবর, নেপালি খুঁটি এবং বিহারি বস্তির বাসিন্দাদের জীবনের সব সঞ্চয় ধ্বংস হয়ে গেছে বন্যার জলের তোড়ে। এখানকার অধিকাংশ বাসিন্দা এখনও আছেন আশ্রয় শিবিরে, কেউ-বা স্বল্পস্থায়ী ঘর বানিয়ে উঁচু জমিতে। ১৯ জুলাই রাতে হু হু করে ঢুকতে শুরু করে বন্যার জল। এক ঘণ্টার মধ্যে ভেসে যায় ঘরবাড়ি, গৃহপালিত পশু, নথিপত্র, আসবাবপত্র। অনেকে ত্রিপল টাঙিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন বিহুবর বাজার এলাকার পাশে।
বিহারি বস্তির বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এরকম বন্যা আগে কখনো দেখেননি। রেলওয়েঘাটের বাসিন্দারা বলছেন, ১৮ জুলাই থেকে টানা বৃষ্টি হচ্ছিল, কিন্তু কেউ ভাবতেও পারেনি এরকম বিধ্বংসী বন্যা হবে। আমরা ঘরে ছিলাম, আমাদের ছেলে বাইরে ছিল। হঠাৎ বিশাল জলের স্রোত আমাদের ঘর এবং আশপাশের এলাকা ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এতদিন ধরে যা সঞ্চয় করেছি বন্যার জল সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। এক যুবক বলেছেন, আমার স্ত্রী দুবার জলে পড়ে গিয়েছিল, যেভাবেই হোক ওকে বাঁচিয়েছি। কিন্তু কয়েক মিনিটে আমার জীবনের যাবতীয় শেষ হয়ে গেছে।
বিহুবরের ২ নং কোয়ারির বাসিন্দা অঞ্জলি কর্মকার বলেছেন, জল বাড়ছিল তবু ঘরে ছিলাম। একসময় জল উঠে আসে গলা পর্যন্ত। ঘাড়ে সন্তানদের নিয়ে পাশের একটা বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিই। তারপর বহু রাতে শ্রবণকুমার নৌকা করে আমাদের আশ্রয় শিবিরে নিয়ে আসে। কিন্তু যাবতীয় সঞ্চয়, হাঁস-মুরগি-গরু-ছাগল, নথিপত্র সব ভেসে গেছে।
নেপালি খুঁটি, বিহুবর এলাকার পাশাপাশি বন্যার জলে চরম ক্ষতি হয়েছে রেলওয়েঘাট এলাকার। অধিকাং বাড়ি জলের তোড়ে মুছে গিয়েছে। পড়ুয়াদের বইপত্র ভেসে গেছে, ভেসে গেছে সরকারি নথিপত্র, দৈনন্দিন জীবনের আবশ্যক সরঞ্জাম গিয়েছে জলের তোড়ে ভেসে। জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার লডাই শিবসাগরের বন্যার্তদের।
Prev Post
Next Post