ডিলিমিটেশন বিল পাসে বিশেষ অধিবেশন!

44

নিউজ ডেস্ক: সংসদের বাদল অধিবেশনে সীমানা পুনর্বিন্যাস এবং সংশোধিত মহিলা বিল পেশ না হলেও চলতি আগস্ট মাসেই তিনদিনের বিশেষ অধিবেশনে এই দুটি বিষয়ে একত্র করে একটি বিল আনার পরিকল্পনা কেন্দ্রীয় সরকারের। সেক্ষেত্রে ১৩ আগস্ট বাদল অধিবেশন শেষ হওয়ার কয়েকদিন পরেই হয়তো সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকতে পারে সরকার।
সংসদীয় সূত্র জানা যাচ্ছে, ১৬, ১৭ এবং ১৮ আগস্ট ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল পেশের জন্য সংসদের বিশেষ অধিবেশন হতে চলেছে। বুধবার সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এই প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর কাছে। রাহুল সরাসরি সম্মতি না দিয়ে বলেন, ইন্ডিয়া ব্লকের অন্যান্য দলের সঙ্গে আলোচনা করে মতামত জানাবেন।
যদিও কংগ্রেস সাংসদ কেসি বেণুগোপাল বলেন, বিশেষ অধিবেশন নিয়ে আমার কাছে কোনও খবর নেই। আমরা সর্বশক্তি দিয়ে বিরোধিতা করব ডিলিমিটেশন বিলের।
এপ্রিল মাসে সীমানা পুনর্বিন্যাস বিল পেশ করা হয়েছিল লোকসভায়। ৫২৮ সাংসদ উপস্থিত ছিলেন, তার মধ্যে বিলের পক্ষে ভোট পড়েছিল ২৯৮ এবং বিপক্ষে ২৩০। যা দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থনের থেকে ছিল ৫৪ ভোট কম। লোকসভায় বর্তমান সাংসদ আছেন ৫৪০। সংবিধান সংশোধন করতে গেল দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন দরকার, যা ৩৬০ সাংসদের সমর্থন।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের পর তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ২০ সাংসদ বিজেপিকে সমর্থন করবে বলে প্রকাশ্যেই বিবৃতি দিয়েছেন। মহারাষ্ট্রের উদ্ধব শিবসেনার বেশ কয়েকজন সাংসদ বর্তমানে যোগ দিয়েছেন শিন্ডে শিবসেনার সঙ্গে। এবং তামিলনাড়ুতে বিধানসভা নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর কংগ্রেসের সঙ্গ ছেড়েছে স্ট্যালিনের ডিএমকে। লোকসভায় যাদের সাংসদ ২২ জন।
এনডিএর সাংসদদের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ সাংসদ এবং মহারাষ্ট্রের দলত্যাগী সাংসদদের যোগ করলেও ৩৬০ সংখ্যা ছুঁতে পারবে না সরকার। এজন্যই সরকারের নজরে ডিএমকে। ডিলিমিটেশন বিল ডিএমকে সমর্থন করলে লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থনের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে সরকার পক্ষ।
২০ জুলাই থেকে সংসদের বাদল অধিবেশন চালু হলেও এখনও ভালোমতো সংসদের কাজকর্ম করা যায়নি একটি দিনও। ২০ জুলাই ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ চলো অভিযানে পুলিশি বর্বরতার নিয়ে সরব বিরোধীরা। সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতির দাবিতে বিরোধীরা প্রতিদিনই নিয়ম করে সোচ্চার হচ্ছে। বুধবার পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সংসদের কোনও কক্ষেই দেখা যায়নি।
এই পরিস্থিতিতে বিশেষ অধিবেশন ডেকে সীমানা পুনর্বিন্যাস বিল পাশ করানো প্রায় অসম্ভব হবে সরকারের কাছে।