ক্যামাক স্ট্রিটে অশান্তির ঘটনায় অভিষেককে তলব পুলিশের, নোটিস পৌঁছল ডেরেকের বাড়িতেও

26

পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা: ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে বিপাকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্যামাক স্ট্রীটের অফিসে অবৈধ বিলবোর্ড খোলা নিয়ে অশান্তির । এই ঘটনায় তৃণমূল সাংসদকে তলব করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বেলা ১২টায় শেক্সপিয়র সরণী থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। পাশাপাশি ডেরেক ও ব্রায়ানকেও তলব করা হয়েছে। ডেরেককে সোমবার ডেকে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

অশান্তির ঘটনার তিনটি মামলা দায়ের হয়। তার একটি মামলাতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেকে পাঠানো হয়েছে।‌ অন্যদিকে, ডেরেককেও তলব করা হয়েছে সোমবার । এই মামলায় ডেরেকের বাড়িতে নোটিস দিতে গিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু, নোটিশ গ্রহণ করেননি তিনি।‌

পুলিশকে ডেরেকের পরিবার জানায়, ডেরেকের নির্দেশ আছে নোটিস না নেওয়ার। এরপর আজ সকালে ফের নোটিস নিয়ে সাংসদের বাড়িতে পৌঁছে যায় পুলিশ। সেইসময় বাড়িতে ডেরেক ছিলেন না। তাঁর বাড়ির এক কর্মী পুলিশের থেকে নোটিসটি গ্রহণ করেন। সোমবার তাঁকে তলব করা হয়েছে। আর মঙ্গলবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেকে পাঠানো হয়েছে।

ক্যামাক স্ট্রিটে অশান্তির ঘটনা
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের হোর্ডিংকে ঘিরে চূড়ান্ত উত্তেজনা তৈরি হয়। হোর্ডিং অবৈধ, অভিযোগ তুলে তা ভাঙতে আসেন পুরসভার কর্মীরা। সঙ্গে ছিল শেক্সপিয়র থানার পুলিশ। কিন্তু, অভিযোগ, অফিসে ঢুকতেই পারেননি পুরসভার কর্মীরা। পুলিশের সঙ্গে তীব্র বচসা শুরু হয় ।‌

অফিসে পৌঁছন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ওব্রায়েন। অফিসে জোর করে ঢুকতে গেলে পরিস্থিতি আর ও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। তারপর দেড় ঘণ্টা ধরে চলতে থাকে পুলিশের সঙ্গে ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের কর্মীদের হাতাহাতি।

কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ডেরেকের বিরুদ্ধে। ‌পুরকর্মীকে হেনস্থা করার অভিযোগ ওঠে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, উর্দি পরা পুলিশের গায়ে হাতও তোলেন তৃণমূল কর্মীরা। কলার টেনে হিঁচড়ে চলতে থাকে কিল চড় ঘুষি। গোটা ঘটনা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনেই ঘটে। কিন্তু, তৃণমূল কর্মীদের একবারও তিনি বাধা দেননি বলে অভিযোগ।

পুলিশকর্মীদের কাজে বাধা, মারধর, সরকারি জিনিস নিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ।‌ পাশাপাশি হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও ব্রায়েন-সহ একাধিক নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে কলকাতা পুলিশ। মোট তিনটি এফ আই আর দায়ের হয়েছে। এই ঘটনায় গ্রেপ্তারির সংখ্যা ১৫।