নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে মণিপুরের মিউজিশিয়ান চোংথাম বিক্রম সিংকে। তাঁর স্মরণসভায় যোগ দিয়ে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বলেছেন, এটা একটা ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে ক্ষমতাশালী হলেই হিংস্র হতে হবে।
স্মরণসভায় রাহুল গান্ধী মণিপুরি সংগীতশিল্পী চোংথাম বিক্রম সিংয়ের হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করেন। তিনি বলেন, হিংসা, ঘৃণা ও ঔদ্ধত্যকে কিছুতেই স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না। ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে তাঁর দল।
নয়াদিল্লির আম্বেদকর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে আয়োজিত চোংথামের স্মরণসভায় রাহুল গান্ধী বলেন, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে এমন এক মানসিকতা বা ফ্যাশন তৈরি হয়েছে যে, তারা মনে করে কোনরকম পরিণতির তোয়াক্কা না করেই হিংস্র আচরণ বা ঔদ্ধত্য দেখানো সম্ভব।
আজকাল এটা একটা ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, আপনি যদি প্রভাবশালী হন তবে হিংস্র হতে পারেন, প্রভাবশালী হলে ঔদ্ধত্য দেখাতে পারেন এবং যা খুশি তাই করতে পারেন, বলেছেন রাহুল গান্ধী।
রাহুলের মতে, চোংথামের মৃত্যু কেবল একজন তরুণের প্রাণহানির কারণেই মর্মান্তিক নয়, বরং এই হামলার সঙ্গে তাঁর ভৌগোলিক বা আঞ্চলিক পরিচয়ের যোগসূত্র থাকার বিষয়টিও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঘটনার প্রেক্ষাপট যাই হোক না কেন, হিংসা ও ঘৃণা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আমরা এই অরাজকতা মেনে নেব না, এই হিংসার সামনে নতিস্বীকার করব না এবং এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব, বার্তা রাহুল গান্ধীর।
চোংথাম সম্পর্কে রাহুলের মন্তব্য, আমরা তাঁকে নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত। আমরা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি… আমরা ন্যায়বিচার পাব এবং হিংস্রতার কাছে ভীত বা নত হব না।
কেন্দ্রীয় সরকারের নাম না করে রাহুল অভিযোগ করেন, চোংথামের হত্যাকাণ্ডকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখা উচিত নয়। তিনি অভিযোগ করেন যে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষের বিরুদ্ধে হুমকি ও হিংস্রতার ঘটনা এখন অত্যধিক হারে ঘটছে।
এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। প্রায়শই এমনটা ঘটছে। কখনো কখনো এর পরিণতি হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত গড়ায় না, কখনো কেবল হুমকি দেওয়া হয়— তবে আমাদের দেশে এসব ঘটনা খুব বেশি ঘটছে। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষ এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেও এমনটা ঘটছে, বলেছেন রাহুল।
স্মরণসভায় উপস্থিত মণিপুরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওক্রাম ইবোবি সিং বলেন, এই ঘটনা দেশের জন্য, বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত মর্মান্তিক।
ইবোবির প্রশ্ন, মণিপুরের মানুষকে আর কতদিন এমন মনোভাবের শিকার হতে হবে? ইবোবি বলেন, আমরা এখানে রাজনীতি বা রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য আসিনি। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষকে যেন বারবার এ দেশে নিজেদের অবস্থান প্রমাণ করতে না হয়।
রাহুল গান্ধী মণিপুরের পরিস্থিতি নিয়ে বিজেপি-শাসিত সরকারেরও সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে মণিপুরে বিভাজন নীতি প্রয়োগ করা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত মণিপুরের মানুষ কখনোই মাথা নত করে না।
এর আগে চোংথামের হত্যাকাণ্ডের পরই রাহুল গান্ধী কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছিলেন। এই হত্যাকে ক্রমবর্ধমান অরাজকতা বলে অভিহিত করেছিলেন, হিংসার মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এক নাবালককে আটক করা হয়েছে। সানলাইট কলোনি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
চোংথামের মরদেহ বিমানে করে ইম্ফলে নিয়ে যাওয়ার পর বুধবার সন্ধ্যায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। তিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দিল্লির কিলোকারি গ্রামে বসবাস করছিলেন। দিল্লিতে সংগীত শিক্ষক ও শিল্পী হিসেবে কাজ করার আগে তিনি মণিপুরি রক ব্যান্ড ‘ফিনিক্স’-এর লিড গিটারিস্ট ছিলেন।