অসমে ৭৮৭ কোটি টাকার প্রকল্প পেপসিকোর

28

নিউজ ডেস্ক: অসমে ৭৮৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে পেপসিকো। নলবাড়ির বানেকুচিতে পেপসিকো ইন্ডিয়ার ৭৮৭ কোটি টাকার খাদ্য উৎপাদন কেন্দ্র উদ্বোধনের পর অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, অসমে শিল্প ইউনিট স্থাপনে আগ্রহী অনেক প্রতিষ্ঠানই উপযুক্ত জমির অভাবে তাদের পরিকল্পনা সাকার করতে পারেনি।
নতুন বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত জমির অভাব দূর করতে কৌশলগত স্থানগুলোতে ল্যান্ড ব্যাংক তৈরি এবং শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে অসম সরকার, বলেন হিমন্ত।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, বিশেষ করে রেলওয়ে স্টেশন ও মহাসড়কের কাছাকাছি জমির খোঁজ করছে সরকার, কারণ ধরনের জমিতে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পরিকাঠামো সহ শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পেপসিকোর এই কেন্দ্রটি অসমে বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে এবং একই সঙ্গে স্থানীয় কৃষক ও শ্রমিকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
৭৮৭ কোটি টাকার এই কেন্দ্রে দুশোর বেশি প্রত্যক্ষ ও ৫০০ পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং এর মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ৭৫ শতাংশই হবেন মহিলা। হিমন্ত আরও বলেন, ১২০ মহিলাকে ডিজিটাল সাক্ষরতার প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে।
২০২৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী চন্দ্রমোহন পাটোয়ারির সঙ্গে যৌথভাবে এই কারখানার ভিতপ্রস্তর স্থাপনের কথা উল্লেখ করে, এই প্রকল্প অসমে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে পাটোয়ারির ভূমিকার প্রশংসা করেন হিমন্ত। তিনি বলেন, সাধারণত চিপসের প্যাকেট কিনলে দেখা যায় যে সেগুলো উত্তরপ্রদেশ, কর্ণাটক বা মহারাষ্ট্রে তৈরি। এখন থেকে আপনারা অসমের বানেকুচিতে তৈরি প্যাকেটও দেখতে পাবেন।
অসমের আলুচাষিদের উৎপাদিত পণ্যের জন্য একটি বড় ও সংগঠিত বাজার তৈরির মাধ্যমে এই কারখানা বড় সুফল বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হিমন্তর মতে, পেপসিকোর বর্তমানে প্রায় ৩০,০০০ মেট্রিক টন আলুর প্রয়োজন হয় এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এই চাহিদা বেড়ে ৭০,০০০ মেট্রিক টনে পৌঁছবে। ফলত প্রচুর আলু জোগান দিতে পারবেন অসমের কৃষকরা।
কৃষকদের কিষান ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিশেষ জাতের আলুর বীজ সংগ্রহের সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে রাজ্য সরকার, পেপসিকো এবং স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার মধ্যে একটি সমঝোতাও হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে প্রায় ৫,০০০ কৃষক ও তাঁদের পরিবার উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, আলুর সাপ্লাই চেইন শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রায় ১০ হাজার টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি কোল্ড স্টোরেজ গড়ে তোলা হবে। অসমের শিল্প সম্প্রসারণ শুধু আর্থিক বিকাশের জন্যই নয়, বরং রাজ্যের যুব সমাজের অসমের বাইরে চাকরির ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর জন্যও অত্যন্ত জরুরি।
হিমন্ত বলেছেন, অসমের বহু শ্রমিক অন্য রাজ্যে মারা গিয়েছে। এমন পরিস্থিতি এড়াতে আমাদের অসমের ভেতরেই শিল্প গড়ে তুলতে হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে, যাতে কাজের সন্ধানে আমাদের রাজ্যের মানুষকে বাইরে যেতে না হয়।