দেশের বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে সরব গৌরব গগৈ

23

নিউজ ডেস্ক: ব্রিকস সম্মেলন শেষ হওয়ার পরই দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নের রেকর্ড নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অসমের কংগ্রেস সভাপিত গৌরব গগৈ। গৌরবের কথায়, বাণিজ্য, উদ্ভাবন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের ঘাটতি অগ্রাধিকার পুনর্বিবেচনার জরুরি প্রয়োজনীয়তাকেই তুলে ধরেছে।
ব্রিকস সম্মেলনের পর দেশের অর্থনৈতিক কর্মক্ষমতা ও অভ্যন্তরীণ উন্নয়নের সূচক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অসমের যোরাটের কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ। এক্ষেত্রে ব্রিকসের অন্যান্য সদস্য দেশের সঙ্গে ভারতের পরিস্থিতির তুলনা করেছেন গৌরব।
বর্তমানে ব্রিকসের সদস্য ভারত, ব্রাজিল, রাশিয়া, চিন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ইন্দোনেশিয়া ও সৌদি আরব। সম্মিলিতভাবে, ব্রিকস বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক এবং বিশ্বের জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে।
সমাজমাদ্যমে গৌরব গগৈ ভারতের মাথাপিছু আয়, বাণিজ্য ঘাটতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও উদ্ভাবন সংক্রান্ত সূচকগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন যে আর্থিক বিকাশের সুফল মূল খাতগুলোতে সমানভাবে পৌঁছয়নি।
গৌরব গগৈ বলেছেন, ২০১১ সালে ভারতের মাথাপিছু ক্রয়ক্ষমতা ছিল ১,৩৫০ ডলার, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ২,৭৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এইসঙ্গে উল্লেখ করেন যে, এই সূচকে ১১টি ব্রিকস দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। একই সময়ে ইথিওপিয়া ও চিন তাদের ডলার-ভিত্তিক আয় প্রায় তিনগুণ করেছে, বলেছেন গৌরব।
বিশ্ববাণিজ্যে ভারতের অবস্থানও তুলে ধরেছেন গৌরব গগৈ। তিনি বলেছেন, বিশ্ব-আয়ে ভারতের অংশীদারিত্ব বাড়লেও বিশ্বজুড়ে পণ্য রফতানিতে ভারতের অবদান ২ শতাংশের নীচে। ২০১১ সালে এই হার ছিল ১.৫ শতাংশ, যা ২০২৩ সালে সামান্য বেড়ে হয়েছে ১.৮ শতাংশ।
এই ব্যবধানের কারণ হিসেবে ব্রিকস-এর মধ্যে ভারতের বাণিজ্য পরিস্থিতি, বিশেষ করে চিনের সঙ্গে বাণিজ্যের বিষয়টিকে চিহ্নিত করেছেন গৌরব গগৈ।
গৌরবের মতে, ব্রিকস-এর সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ২০২০-২১ অর্থবছরের ৭৪.৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২২৬.১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ তা তিনগুণেরও বেশি বেড়েছে। তিনি আরও যোগ করেন যে, এই বৃদ্ধির পেছনে চিন থেকে আমদানির বড় ভূমিকা রয়েছে।
উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে তিনি গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্স’-এ ১৩৯টি অর্থনীতির মধ্যে ভারতের ৩৮তম অবস্থানের কথা উল্লেখ করে যুক্তি দিয়েছেন যে, এই অবস্থান বহুল প্রচারিত উন্নত ভারতের যে পর্যায়ে থাকা প্রয়োজন, তার চেয়ে অনেক পিছিয়ে।
গৌরব গগৈয়ের দাবি, গত এক দশকে সরকার মূলত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, সরকারি মূলধনী ব্যয় এবং বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ সহায়তা প্রদানের বিষয়টিতেই মনোযোগ দিয়েছে। অগ্রাধিকারগুলো পুনর্বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি, মত গৌর গগৈয়ের।