পাহাড় থেকে লাফিয়ে মৃত্যু রামানুজের! পুলিশের ভূমিকায় উঠছে প্রশ্ন

1

নিউজ ডেস্ক: দিন কয়েক আগে শিহরনকারী হত্যাকাণ্ডের খবর কাঁপিয়ে দিয়েছিল গোটা দেশকে। স্ত্রী রিয়াকে খুন করে কেটে তাঁর মুন্ডু রেফ্রিজারেটরে রেখেছিল অভিযুক্ত রামানুজ গোস্বামী। সোমবার ভোর রাতে ধৃত রামানুজকে রক্ত পরীক্ষার জন্য হাতিগাঁও থেকে গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়ার সময় সে পালানোর চেষ্টায় পাহাড় থেকে ঝাঁপ দেয়, দাবি পুলিশের। পাহাড় থেকে লাফানোর জেরে মারাত্মক আঘাতে রামানুজের মৃত্যু হয়, দাবি পুলিশের। এইসঙ্গে পুলিশের দাবি, রামানুজকে কোনও গুলি করা হয়নি।
পুলিশের দাবি, রামানুজকে গুলি করা হয়নি। পাহাড় থেকে লাফ দেওয়ার ফলেই রামানুজ প্রাণঘাতী আঘাত পায়। পরে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গুয়াহাটির বশিষ্ঠপুর এলাকায় নিজের বাড়িতে স্ত্রী রিয়া তালুকদারকে হত্যার অভিযোগে রামানুজ গোস্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
পুলিশের দাবি, বাড়িতে কথা-কাটাকাটির জেরে রিয়াকে হত্যা করে রামানুজ। ধৃত রামানুজের দাবি, রিয়া বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে, এই সন্দেহের জেরেই তাঁকে খুন করা হয়েছিল।
রিয়ার সঙ্গে রামানুজের বিয়ে হয়েছিল ছয় মাস আগে। হাতিগাঁওর অ্যাপার্টমেন্টে তাঁরা একসঙ্গে বসবাস করছিলেন। উবর চালক হিসেবে কর্মরত রামানুজের বাড়ি গৌরীপুরে।
যে জমিতে অ্যাপার্টমেন্টটি গড়ে তোলা হয়েছিল, তা ছিল রামানুজের বাবার মালিকানাধীন। পরবর্তী সময়ে জমিটি প্রমোটারের কাছে বিক্রি করা হয় এবং চুক্তির অংশ হিসেবে তাঁর বাবাকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়েছিল।
নুনমাটির বাসিন্দা রিয়া ফ্যান্সি বাজারের এসি মার্কেট এলাকার একটি বুটিকে কাজ করতেন। রিয়ার বাবা-মা নেই, শুধু এক ভাই রয়েছেন।
রামানুজের মৃত্যু বেশ কয়েকটি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। রক্ত পরীক্ষার জন্য ভোর তিনটেয় কেন তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল? পুলিশ পাহারা এড়িয়ে রামানুজ কীভাবে পাহাড় থেকে লাফ দিতে পারল? পুলিশ কেন রামানুজের উপযুক্ত পাহারার ব্যবস্থা করতে পারেনি?
২০১৬ থেকে অসম চলছে বিজেপি সরকার। ২০২১ সালের মে মাসে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তারপর থেকে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। রামানুজকে নিয়ে অসমে পুলিশি হেফাজতে বা রিমান্ডের আগে মোট ৮১ জন অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে।