নাগা-কুকি সংঘর্ষে মণিপুরে নিহত ৯

46

নিউজ ডেস্ক: নাগা ও কুকি জনগোষ্ঠীর সংঘর্ষে মৃত্যুভূমি মণিপুরে। রক্তাক্ত সংঘর্ষে গত দুদিনে দুপক্ষের ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মণিপুরের কাংপোকপি জেলায় সশস্ত্র জঙ্গিদের হামলায় নিহত দুই নাগা ব্যক্তির ময়নাতদন্ত স্থগিত রেখেছে জয়েন্ট ট্রাইবস কাউন্সিল। সংগঠনের দাবি, নিহতদের একজনের বিচ্ছিন্ন ও নিখোঁজ মাথা উদ্ধার করতে হবে এবং সন্দেহভাজন তিনজনকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে।
মাকুই গ্রামের বাসিন্দা ৪৮ বছর বয়সি দিবাম্বু রিংকাংমাই এবং ৫২ বছর বয়সি আজিনবু রিংকাংমাইয়ের মৃতদেহ রবিবার গভীর রাতে ইম্ফলের জওহরলাল নেহরু ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (জেএনআইএমএস)-এ নিয়ে আসা হয়।
এদিকে, রবার্ট ও ডিএম মাচুঙ্গামমাং নামে আরও দুজন মৃত ব্যক্তির মরদেহ তাঁদের নিজ নিজ গ্রামে সমাহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মাকুইতে হামলায় তিন নাগা ভিলেজ গার্ড নিহত।
কাংপোকপি জেলার ইম্ফল-তামেই সড়কের পাশে অবস্থিত মাকুই আশং নাগা গ্রামে সশস্ত্র জঙ্গিরা হামলা চালায়। এই হামলায় নাগা সম্প্রদায়ের তিন গ্রামরক্ষী নিহত হন।
একটি ভিডিয়োতে মাকুই গ্রামের বাসিন্দা নামহোথিউবু রিংকাংমাইয়ের ৫২ বছর বয়সি ছেলে আজিনবু রিংকাংমাইকে শিরশ্ছেদ করতে দেখা গেছে বলে দাবি। করা হচ্ছে। ভিডিয়ো ফুটেজে তাঁর বিচ্ছিন্ন মাথা একটি বাঙ্কারে রাখতে দেখা যায়। যদিও ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি এনকেটিভি বাংলা।
এরই পাশাপাশি, মাকুই আশং গ্রামে হামলার প্রায় সময়ে তাপন লিয়াংমাই গ্রামে সশস্ত্র জঙ্গিরা অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও দুজন আহত হন।
নাগা অধ্যুষিত কামজং জেলার কুকি অধ্যুষিত গ্রামে অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীদের গুলিতে ২২ বছর বয়সি এক মহিলা (যিনি পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন) নিহত হওয়ার পর নতুন করে হিংসা শুরু হয়েছে মণিপুরে। হত্যাকাণ্ডের জেরে নাগা-কুকিদেনর মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। সংঘর্ষে ৪২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হন এবং ১০টি বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
কামজং জেলায় ভারত-মায়ানমার সীমান্তের কাছে অবস্থিত তাংখুল নাগা বসতি ‘নিংচৌ’ গ্রামে সন্দেহভাজন জঙ্গিরা প্রবেশ করে গুলি চালায় বলে খবর পাওয়া গেছে। এতে ৩৫ বছর বয়সি এনগাছানসো নিংশেন এবং ৪৮ বছর বয়সী লেইশিশান লেইশাদাং নিহত হন। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পর হামলাকারীরা মায়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়।
উখরুল জেলায় আরেকটি ঘটনায়, চেপু ইয়াওলেন গ্রামের কাছে সন্দেহভাজন জঙ্গিরা সন্দীপ রাই (৪০) নামে এক ব্যক্তির গাড়িতে গুলি চালালে তিনি নিহত হন। গাড়ির ভেতরেই তাঁর মৃত্যু হয়।
কাংপোকপি জেলার মাকুই আশাং ও তাপন এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির খবরও পাওয়া গেছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের সংঘর্ষে ৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত।
এর আগে মণিপুর ইম্ফল উপত্যকার মৈতেই এবং পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি এলাকার কুকিদের মধ্যে ব্যাপক জাতিদাঙ্গায় ৩০০ জনেরও বেশি নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত।