নির্দেশ অমান্য করার পর আদালতে ক্ষমাপ্রার্থনা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের, নাম না করে রাহুল গান্ধীর আচরণের ব্যাখ্যা চাইল আদালত

23

নিউজ ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে ১০ অক্টোবর দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি বন্ধ রেখেছিল কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীন দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার।
ভোটার তালিকা থেকে গণহারে নাম বাদ দেওয়ার বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধী সহ বিরোধী নেতাদের আবেদনে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাব তলব করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে যে আবেদনকারীদের একজনকে ১২ অক্টোবরে তাঁর আচরণের জন্য ব্যাখ্যা দিতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট কারো নাম করলেও এটা রাহুল গান্ধীর উদ্দেশে বলা হয়েছে বলেই সবার ধারণা।

সিজেপি-র বিক্ষোভে বিধিনিষেধ সংক্রান্ত মামলায় আদালত অবমাননার মামলায়, দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমার সুপ্রিম কোর্টে “শর্তহীন ও নিরঙ্কুশ ক্ষমা” চেয়েছেন। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চে দাখিল করা দুটি হলফনামায় কমিশনার আদালতের নির্দেশ অমান্য করার কোনো “ইচ্ছাকৃত বা পরিকল্পিত” প্রচেষ্টা ছিল না বলে দাবি করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে জারি করা আদালত অবমাননার নোটিস খারিজ করার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, রাইসিনা হিল থেকে ৪ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে কেবল মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছিল। এ ছাড়া, ৯ অক্টোবরের আদালতের নির্দেশের পর মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও প্রস্থানের বিধিনিষেধ ৩০৩টি স্টেশনের মধ্যে ৫৭টি থেকে কমিয়ে ৪৫টিতে নামিয়ে আনা হয় এবং ১০ অক্টোবর রাত ১০টার মধ্যে সমস্ত পরিষেবা স্বাভাবিক করে দেওয়া হয়। হলফনামায় আরও বলা হয়েছে, বিক্ষোভস্থল থেকে যাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তাদের দুই থেকে ছয় ঘণ্টার মধ্যেই ছেড়ে দেওয়া হয় এবং তাদের “গরম, টাটকা ও ভালো খাবার” দেওয়া হয়। এ ছাড়া রাজনৈতিক নেতাদের এসএইচও কক্ষে বসানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কমিশনার আরও জানিয়েছেন যে, সুপ্রিম কোর্ট চত্বরের ভেতরে কোনও নোটিশ লাগানো হয়নি।

মামলাকারীর আইনজীবীর দাবি, বিক্ষোভের খবর রিপোর্টিং করার সময় বহু সাংবাদিকের ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের কাজের জন্য এই ডিভাইস অপরিহার্য, তাই সেগুলো অবশ্যই ফেরত দিতে হবে। তাঁর যুক্তি, এসব ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করার এক্তিয়ার পুলিশের নেই।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত জানান, বিক্ষোভ দমনের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্ত বিষয়ে আদালত নোটিশ জারি করছে এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে এবিষয়ে পাল্টা হলফনামা দিতে হবে।

দিল্লিতে জ্ঞানেশ-বিরোধী বিক্ষোভের সময় মহিলা সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের হামলার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিংকে দুটি সিল করা খামে কমিটির সদস্যদের নাম জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। একটি খামে থাকবে হামলার শিকার হওয়া মহিলা সাংবাদিকদের নাম এবং অন্যটিতে থাকবে অবসরপ্রাপ্ত মহিলা বিচারপতি ও পুলিশ কর্মকর্তাদের তালিকা, যাদের এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

বিক্ষোভের সময় এসিপি বিবেক ভগতের বিরুদ্ধে এক মহিলা সাংবাদিককে যৌন নিগ্রহ করার অভিযোগ ওঠে। তবে এবিষয়ে দিল্লি পুলিশ কোনও এফআইআর নেয়নি। উলটোদিকে বিবেক ভগৎ ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছিলেন। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে ওঠে। প্রধান বিচারপতি দিল্লি পুলিশকে ওই সাংবাদিককে গ্রেফতার না-করার নির্দেশ দেন।

যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদের জায়গার হিসেবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে নোটিস পাঠিয়েছে। আদালত সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে যে, যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি কি আদালতের মৌখিক মন্তব্যের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে, নাকি জনবিক্ষোভের স্থান হিসেবে জায়গাটির উপযোগিতা নিয়ে কোনো স্বতন্ত্র মূল্যায়নের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে?
সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানিয়েছেন যে, এই সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের কোনও মন্তব্যের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়নি। বরং আগে গঠিত একটি কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে দিল্লির প্রতিবাদ কর্মসূচি সংক্রান্ত সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য ডিজিটাল নথিপত্র সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে, বেসরকারি পক্ষগুলোকেও তাদের কাছে থাকা ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ করে আদালতে প্রমাণ হিসেবে জমা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট সমস্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে প্রতিবাদ বিক্ষোভের সঙ্গে সম্পর্কিত সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য ডিজিটাল ফুটেজ বা তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, বেসরকারি পক্ষগুলোকেও তাদের কাছে থাকা প্রাসঙ্গিক ফুটেজ বা তথ্য-প্রমাণ জমা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।