ভারতরত্ন ভূপেন হাজরিকা সম্মান পাচ্ছেন উষা মঙ্গেশকর

31

নিউজ ডেস্ক: ভূপেন হাজরিকার শতবর্ষে প্রথম ভূপেন হাজরিকা ভারতরত্ন সম্মান পাচ্ছেন বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী উষা মঙ্গেশকর।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এখবর জানিয়ে বলেছেন, ২৯ নভেম্বর নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে কিংবদন্তি এই শিল্পী ভূপেন হাজরিকার বছরব্যাপী জন্মশতবর্ষ উদযাপনের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই পুরস্কার প্রদান করবেন।
প্রতি তিন বছর অন্তর দেওয়া হবে এই পুরস্কার; এর সঙ্গে রয়েছে ১০ লক্ষ টাকা নগদ অর্থ ও একটি মানপত্র।
একইসঙ্গে অসম বৈভব, অসম সৌরভ এবং অসম গৌরব সম্মান ঘোষণা করেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। বিখ্যাত চোখ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হর্ষ ভট্টাচার্য পাচ্ছেন অসম বৈভব সম্মান। অসম সৌর সম্মান পাচ্ছেন বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ কুশল কোঁয়র, শিল্প সঞ্চালক নুরুদ্দিন আহমেদ, গায়ক পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং হারগিলা সংরক্ষক পূর্ণিমা দেবী বর্মন। অসম গৌরব সম্মান পাচ্ছেন সমাজকর্মী দেবীপ্রসাদ বাগরোডিয়া, ফুটবলার হলিচরণ নার্জারি, ক্রিকেটার সিমু দাস, পাম তেল কৃষক হরকান্ত বসুমতারি, খাদ্য ও ভ্রমণ উদ্যোগী নিবেদিতা ইয়েন, দাবাড়ু মায়াঙ্ক চক্রবর্তী, আদা কৃষক জিতেন ফাংসো, ডেয়ারি কৃষক তনুময় সোনার, ভ্রমণ ও পর্যটনবিদ দিকপাল লাহান, অসরকারি সংগঠন কলং কপিলি এবং পথার অ্যাগ্রো অর্গানিক প্রডিউসার কোম্পানি।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, সারা দেশ থেকে প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার মানুষ সমাপ্তি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই আয়োজনে ভূপেন হাজারিকার শৈল্পিক উত্তরাধিকার এবং সংগীত, কবিতা ও মানবতাবাদী দর্শনে তাঁর অবদান উদযাপন করা হবে।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আরও জানান, প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী কবিতা কৃষ্ণমূর্তি, শঙ্কর মহাদেবন ও শ্রেয়া ঘোষাল এবং অসমের শিল্পীরা ভূপেন হাজরিকার প্রতি সংগীতের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।
ভূপেন হাজরিকার কালজয়ী সৃষ্টিগুলোকে তুলে ধরতে এবং তাঁর কাজকে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক দর্শকদের সামনে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।
অনুষ্ঠানে অসম তথা দেশের প্রতি এই সাংস্কৃতিক আইকনের অবদানকে তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে, মানবতা, সম্প্রীতি ও বিশ্বভ্রাতৃত্বের যে বার্তা তিনি দিয়ে গেছেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
ব্রহ্মপুত্রের কবি হিসেবে সুপরিচিত ভূপেন হাজরিকার সংগীত ও সাহিত্যকর্ম ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক সীমানা ছাড়িয়ে গিয়েছিল, সংগীতের সর্বজনীন ভাষার মাধ্যমে তিনি মানুষকে একে অপরের কাছাকাছি নিয়ে এসেছিলেন, বলেন হিমন্ত।
গত বছর শুরু হওয়া বছরব্যাপী জন্মশতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে, ভূপেন হাজরিকার স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদী উপস্থিত ছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী হাজরিকার সম্মানে ১০০ টাকার একটি স্মারক মুদ্রা এবং ‘ভারত রত্ন ভূপেন হাজরিকা’ শিরোনামে তাঁর একটি জীবনীগ্রন্থ প্রকাশ করেন।
১৯২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর অসমের তিনসুকিয়া জেলার সদিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন ভূপেন হাজারিকা। ২০১১ সালের ৫ নভেম্বর মুম্বাইতে তাঁর মৃত্যু হয়। ২০১৯ সালে তাঁকে মরণোত্তর ভারতের সর্বোচ্চ সম্মান ‘ভারতরত্ন’-এ ভূষিত করা হয়।