নিউজ ডেস্ক: অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলের আছড়ে পড়ার পর ক্রমশ শক্তি হারাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। বুধবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ অর্ণবের ল্যান্ডফল শুরু হয়। তারপর এই ঘূর্ণিঝড় খুব ভয়ংকর থেকে মারাত্মক পর্যায়ে চলে এসেছে।
ঘূর্ণিঝড়টি রাত দুটো থেকে সকাল ৮টার মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করেছে। এসময় বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫-১৩৫ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত। মৌসম ভবন জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের স্থলভাগে উঠে আসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং এর কেন্দ্রস্থল পুরোপুরি স্থলভাগের ওপর চলে এসেছে।
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর কারণে কলকাতায় ৫টি উড়ান বাতিল, ব্যাহত অন্যান্য উড়ান পরিষেবা।
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, ঝোড়ো হাওয়া এবং বিভিন্ন পরিচালনগত সীমাবদ্ধতার কারণে কলকাতার বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া ও সেখানে অবতরণকারী বেশ কয়েকটি উড়ান বাতিল করা হয়েছে অথবা সেগুলোর পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে।
ইন্ডিগোর পাঁচটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং অন্যান্য বিমান সংস্থার বেশ কয়েকটি ফ্লাইটের পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে।
‘অতি তীব্র’ এই ঘূর্ণিঝড় দিনের শুরুর দিকে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি স্থলভাগে আঘাত হানতে শুরু করে। এর ফলে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার উপকূলীয় অঞ্চলগুলো ভারী বৃষ্টিপাত, ঝোড়ো হাওয়া এবং সমুদ্রের জলরাশির প্রবল তোড়ের কবলে পড়েছে।
অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার উপকূলীয় অঞ্চলে ‘অতি তীব্র’ ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আঘাত হানার ফলে গাছপালা উপড়ে পড়েছে, রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে এই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ধ্বংসলীলার দৃশ্য ফুটে উঠেছে।
অন্ধ্রপ্রদেশে কোনও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, জানিয়েছেন অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু বুধবার প্রায় ৩২ হাজার সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে টেলি-কনফারেন্স করেন।
বেশ কয়েকটি জেলায় বৃষ্টিপাত কমলেও এখনও দমকা হাওয়া বইছে। নাইডু আধিকারিকদের নির্দেশ দেন, সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি যতটা সম্ভব কম রাখতে হবে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।
মৌসম ভবনের শেষ বুলেটিন অনুযায়ী, অর্ণবের বর্তমান অবস্থান পূর্ব ও উত্তরপূর্বের নারসাপুর থেকে ২০ কিমি, দক্ষিণ-পশ্চিম ইয়ানাম উপকূল থেকে ৪০ কিমি এবং দক্ষিণ-পশ্চিম কাকিনাডা থেকে ৬০ কিমি। অর্ণবের প্রভাবে উপকূলবর্তী এলাকায় বহু গাছ ভেঙে পড়েছে। খেলনা গাড়ির মতো উড়ে গিয়েছে বাইক। বন্ধ স্কুল-সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও। প্রভাব পড়েছে ট্রেন পরিষেবাতেও। আনাকাপল্লি, বিশাখাপত্তনম, কাকিনাডা, কোনাসীমা জেলার বিভিন্ন এলাকায় অতিভারী বৃষ্টি হয়েছে। শুধু অন্ধ্র নয়, ওড়িশার গোপালপুর, পুরী-সহ বিভিন্ন এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়ে।
Prev Post
Next Post