এসসিও বৈঠকে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ ভারতের, সিঁদুর অভিযানের পর এই প্রথমবার

26

নিউজ ডেস্ক: আসন্ন এসসিও বৈঠকে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানাল আয়োজক ভারত। অবশ্য শুধু পাকিস্তান নয়, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দশ দেশকেই আমন্ত্রণ জানিয়েছে। অপারেশন সিঁদুর-এর পর এই প্রথম কোনও পাকিস্তানি মন্ত্রীকে ভারত আমন্ত্রণ জানাল।
পাকিস্তানের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আওরঙ্গজেব খান খিচিকে আগামী ২০ থেকে ২২ নভেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় এসসিও সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।
পহেলগামে হামলার পর ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত পরিচালিত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর জেরে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক যখন টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই এই আমন্ত্রণ। সামরিক অভিযানের পর কোনও পাকিস্তানি মন্ত্রীকে এটিই প্রথম আমন্ত্রণ।
খিচি যদি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন, তবে সেটি হবে ২০২৩ সালের মে মাসে গোয়ায় অনুষ্ঠিত এসসিও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিলে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির অংশগ্রহণের পর কোনও পাকিস্তানি মন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর।
২০ অক্টোবর তাজিকিস্তানের দুশানবেতে অনুষ্ঠিত এসসিও সরকার প্রধানদের কাউন্সিলের বৈঠকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই ফোরামের ঘোষণা করেন এবং জানান যে, সব সদস্য রাষ্ট্রকেই এতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
রাজনাথ সিং বলেন, “এই বছরের শেষ নাগাদ ভারত প্রথম ‘এসসিও সিভিলাইজেশন ডায়ালগ ফোরাম’-এর আয়োজন করবে। আমরা এসসিওভুক্ত সব দেশকে এতে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
এই ফোরামের উদ্দেশ্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি করা।
রাজনাথ বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় কোনও দ্বিমুখী নীতি থাকা চলবে না। যারা উগ্রপন্থীদের অর্থ দেয়, সমর্থন জোগায় বা নিরাপদ আশ্রয় দেয়, তাদের কোনও স্থান নেই। সন্ত্রাসবাদের পুরো কাঠামোটিকে দৃঢ়ভাবে ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভেঙে ফেলতে হবে।
বৈঠকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার উপস্থিত ছিলেন।
এসসিও-তে সদস্য দশ দেশ: বেলারুশ, চিন, ভারত, ইরান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, পাকিস্তান, রাশিয়া, তাজিকিস্তান এবং উজবেকিস্তান। ভারত ২০১৭ সালে এর পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করে।
আফগানিস্তান ও মঙ্গোলিয়া পর্যবেক্ষক হিসেবে যুক্ত রয়েছে এবং এ ছাড়া এই জোটের ১৫টি সংলাপ অংশীদার দেশও রয়েছে।