বাংলাদেশে পোশাক শ্রমিকদের বিদ্রোহ গাজীপুরে শ্রমিক–পুলিশ সংঘর্ষে আহত ৩০

33

নিউজ ডেস্ক: মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বাংলাদেশে পোশাক শ্রমিকদের বিদ্রোহ। গাজীপুরের নাওজোড় ও ভোগড়া এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে পুলিশ ও শ্রমিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
শ্রমিক অসন্তোষের কারণে এর মধ্যেই গাজীপুর জেলার অন্তত ৬০ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শ্রমিক নয় এমন সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অন্যদিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়া এলাকায় কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে বিজিবি, শিল্প পুলিশ ও থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ করে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করেন। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
একই সময়ে ভোগড়া বাইপাস এলাকায়ও শ্রমিকেরা টায়ার জ্বালিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। সেখানেও পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করে তাঁদের সরিয়ে দেয়।
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ সহ বিভিন্ন দাবিতে সাভারের আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ চলছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। তবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আশুলিয়ায় প্রায় ৪০টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া প্রায় ১০টি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে কারখানার ভেতরে অবস্থান করছেন।
নিশ্চিন্তপুর এলাকায় আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের পাশের একটি গলিতে শ্রমিক ও পুলিশ মুখোমুখি হয়ে যায়। শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ করে ইটপাটকেল ছুড়েছে। এর আগে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের সময় কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয় পুলিশ।
৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করে পোশাক শ্রমিকেরা। মঙ্গলবার বেলা তিনটের দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কাঠেরপুল এলাকায় বিভিন্ন কারখানা থেকে বেরিয়ে শ্রমিকেরা সড়কে নেমে আসেন। তাঁরা লিংক রোডের শিবু মার্কেট এলাকায় অবরোধ করলে সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে। বর্তমান ন্যূনতম মজুরি ১২,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০,০০০ টাকা (ভারতীয় টাকায় ২৩ হাজার) করার দাবি জানাচ্ছেন শ্রমিকরা।
ঢাকার মিরপুর, সাভারের আশুলিয়া, গাজীপুর এবং নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শ্রমিকরা রাস্তা ও মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে।
পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মিরপুর ও গাজীপুরে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
অস্থিরতার কারণে শত শত পোশাক কারখানায় উৎপাদন স্থগিত বা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
শ্রমিকদের দাবি পর্যালোচনার জন্য সরকার ৬ সদস্যের একটি নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। তবে শ্রমিকরা সুনির্দিষ্ট ঘোষণা ছাড়া আন্দোলন থেকে সরতে রাজি নন।
সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, এই আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে এবং নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে শ্রমিক নেতারা ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলছেন।