ওমান উপকূলে জাহাজে গোলা, মৃত্যু গুজরাটের নাবিকের

20

নিউজ ডেস্ক: ওমানের উপকূলে ভারতীয় পতাকাবাহী আল ইউসুফি জাহাজে হামলার ঘটনায় গুজরাটের এক নাবিক নিহত হয়েছেন। কেন্দ্রীয় নৌপরিবহণ মন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল জানিয়েছেন, ১৪ ভারতীয় নাবিক নিয়ে জাহাজটি ওমান উপকূলের কাছাকাছি যাওয়ার সময় একটি “অজ্ঞাত আকাশযান” দ্বারা আক্রান্ত হয়।
মন্ত্রী জানান, এমএসভি আল ইউসুফি নামের জাহাজটিতে এই হামলা চালানো হয়। জাহাজের ১৩ নাবিক নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন এবং ওমানের কোস্ট গার্ড তাঁদের উদ্ধার করে। তবে গুজরাটের বাসিন্দা গান্ধার নাহিম আজিজ নামের এক নাবিক আঘাতের কারণে মারা যান।
সর্বানন্দ সনোয়াল বলেন, মন্ত্রক এবং ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, যাতে বেঁচে যাওয়া ১৩ জন নাবিককে দ্রুত সহায়তা দেওয়া যায় এবং তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি মৃত নাবিকের মরদেহও দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আল হামরিয়া বন্দর থেকে গুজরাটের পোরবন্দরের দিকে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হয়। ভারত এই হামলার নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য রুটে বৃহত্তর নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক পরিকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধ হওয়া উচিত।
আমেরিকা-ইরান সংঘাত এবং সৌদি আরবের ওপর হুথি বিদ্রোহীদের হামলার ঘটনা সত্ত্বেও ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম। তবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে বিদ্যমান শত্রুতা ভারতীয় নাবিকদের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।
গত সপ্তাহে প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানে আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার পর থেকে অন্তত ২২ ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৪ জনই ছিলেন নাবিক।
গত মে মাসে গোলার আঘাতে ওমান উপকূলের কাছে ডুবে যায় একটি ভারতীয় জাহাজ। তার পরে জুনেও ওমান উপকূলে ভারতীয় জাহাজের ওপরে হামলা হয়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের একটি প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়া হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত ভারতীয় নাবিকরা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কবলে পড়েছেন। হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায়, ভারত হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী কোনও জাহাজে নিজেদের নাগরিকদের নিয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
পারস্য উপসাগরে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ক্রমশ বিবদমান সামরিক পক্ষগুলোর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। যদিও বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী, তবুও আমেরিকা ও ইরান— উভয় পক্ষের চালানো হামলা সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সামুদ্রিক নৌ-সংকট তৈরি করেছে।