নাগা গোষ্ঠীর সংঘর্ষে মণিপুরে মৃত ৪

24

নিউজ ডেস্ক: মণিপুরের নোনে জেলায় দুই নাগা গোষ্ঠী জেডইউএফ(জে) এবং এনএসসিএন-আইএম ক্যাডারদের সংঘর্ষে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে ঘটনাস্থল, সংঘর্ষের কারণ এবং নিহত বা আহত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বুধবার ভোরে মণিপুরের নোনে জেলায় জেলিয়াংরং ইউনাইটেড ফ্রন্ট (জেনচুই গোষ্ঠী)— যা জেডইউএফ(জে) নামে পরিচিত— এবং এনএসসিএন-আইএম-এর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সূত্র অনুযায়ী, নুংবা থানা এলাকার আওতাধীন তাওদাইজাংয়ে ভোর সাড়ে ৩টের দিকে গোলাগুলি শুরু হয়। এতে এনএসসিএন-আইএম এবং জেডইউএফ(জে)-এর সন্দেহভাজন ক্যাডাররা জড়িত ছিল বলে অভিযোগ।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন— যার মধ্যে এক পক্ষের একজন এবং অন্য পক্ষের তিনজন রয়েছেন। এ ছাড়া আরও একজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সূত্র আরও জানিয়েছে, প্রাথমিক গোলাগুলির পরও ওই এলাকায় গুলিবর্ষণ অব্যাহত ছিল, যা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
ঠিক কী কারণে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হল, নিহতদের পরিচয় কী এবং ঠিক কতজন আহত হয়েছেন— তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, মণিপুরের উখরুল জেলায় যাত্রীবাহী বাসে জঙ্গিদের গুলি চালানোর খবর পাওয়া গেছে। তবে কেউ হতাহত হয়নি। ঘটনাটি ঘটেছে উখরুল জেলার টিএম কাসোম গ্রামের কাছে ইম্ফল-উখরুল সড়কে।
বুধবার, বিকেলে মণিপুরের উখরুল জেলার টিএম কাসোম গ্রামের কাছে ইম্ফল-উখরুল সড়কে সন্দেহভাজন সশস্ত্র জঙ্গিরা যাত্রীবাহী যানবাহন ও পণ্যবাহী ট্রাকে গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে ঘটনাটি ঘটে। তখন একটি উইঙ্গার সহ বেশ কয়েকটি যাত্রীবাহী গাড়ি ইম্ফল থেকে উখরুলের দিকে যাচ্ছিল। জানা গেছে, লিটান এলাকা পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনী গাড়িগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে এসেছিল, এরপর নিরাপত্তা কর্মীরা সেখান থেকে ফিরে যায়। এরপর টিএম কাসোম গ্রামের কাছে গাড়িগুলোর ওপর গুলি চালানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ১০ মিনিট ধরে এই গুলিবর্ষণ চলে। সন্দেহভাজন জঙ্গিরা চলন্ত গাড়িগুলোকে লক্ষ করে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে। গুলির হাত থেকে বাঁচতে যাত্রীরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে সরে যেতে বাধ্য হন। গুলিবর্ষণের তীব্রতা সত্ত্বেও, গাড়িতে থাকা সকল যাত্রী অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এক যাত্রী সমাজমাধ্যমে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানিয়েছেন যে, লেইমাংচিং ও টিএম কাসোমের মধ্যবর্তী লিটান এলাকায় তাঁদের নিরাপত্তা রক্ষাকারী দল থেমে যাওয়ার পরপরই চলন্ত গাড়িগুলোকে লক্ষ করে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালানো হয়।
ওই যাত্রীর ভাষ্যমতে, গোলাগুলি অব্যাহত থাকার সময় তাঁদের ‘উইঙ্গার’ গাড়ির চালক বাধ্য হয়ে দুটি ট্রাকের মাঝখানের সরু জায়গায় আশ্রয় নেন এবং পরে দ্রুত সেখান থেকে গাড়ি চালিয়ে বেরিয়ে যান।
যাত্রী জানান, শারীরিকভাবে কেউ আহত না হলেও, এই ঘটনায় যাত্রীরা মানসিকভাবে প্রচণ্ড আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এবং এই রুটে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
২০২৬ সালের ১৮ এপ্রিল, উখরুল জেলার টিএম কাসোম গ্রামের কাছে জাতীয় মহাসড়ক-২০২-এ সশস্ত্র হামলায় দুই তাংখুল নাগা বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।
২০২৩ সালের মে মাসে মণিপুরে জাতি দাঙ্গা শুরু হয়েছিল। তখন তিন কুকি মহিলাকে বিবস্ত্র করে ঘোরানো ও তাঁদের মধ্যে দুজনকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় দেশজুড়ে আলোড়ন এবং চাপে পড়ে প্রধানমন্ত্রীকেও বিবৃতি দিতে হয়েছিল। নির্যাতিতা তিন কুকি-জো মহিলার মধ্যে তৃতীয় নির্যাতিতার ১৩, ১৬ এবং ১৯ নভেম্বর গুয়াহাটির বিশেষ আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ করতে সিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। অন্য দুই নির্যাতিতার সাক্ষ্যগ্রহণ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।