নিউজ ডেস্ক: কাউকে আটক করলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে পেশ করতে হবে। না হলে সংবিধান অমান্য করা হয়েছে বলে ধরা হবে। ‘গ্রেফতার’ ও ‘আটক’ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় সুপ্রিম কোর্টের।
সুপ্রিম কোর্ট বলেছে:
১. অনুচ্ছেদ ২২-এর অধীনে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার জন্য নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা শুরু হবে সেই মুহূর্ত থেকে, যখন কোনও ব্যক্তিকে আটক করা হয় এবং তার স্বাধীনতা খর্ব হয়। এটি তার আনুষ্ঠানিক গ্রেফতারের সময় থেকে গণনা করা হবে না।
২. যদি কোনও ব্যক্তিকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার আগেই ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রাখা হয়, তবে তাকে অবিলম্বে হেফাজত থেকে মুক্তি দিতে হবে।
৩. ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা হিসাব করার সময়, গ্রেফতারের স্থান থেকে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত পর্যন্ত যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনীয় সময় ছাড়া অন্য কোনও সময়কাল বাদ দেওয়া যাবে না।
৪. আটককারী কর্তৃপক্ষকে শুধু ২৪ ঘণ্টার সময়সীমার কথাই মনে রাখতে হবে না, বরং বিএনএসএস-এর ধারা ৫৮ অনুযায়ী, মামলার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যতটুকু সময় যুক্তিসংগত, তার চেয়ে বেশি সময় যেন কাউকে আটকে রাখা না হয়, তা-ও নিশ্চিত করতে হবে।
৫. ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার সময়, তিনি সেই প্রকৃত তারিখ ও সময় নথিবদ্ধ করতে বাধ্য— যখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্বাধীনতা খর্ব হয়েছিল— এবং তাকে পরীক্ষা করে দেখতে হবে যে, সেই সময় থেকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা মানা হয়েছে কি না। যদি ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা লঙ্ঘিত হয়ে থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবিলম্বে আটকাবস্থা থেকে মুক্তি দিতে হবে।
৬. ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার সময় তিনি আরও পরীক্ষা করবেন যে, আটকাবস্থায় রাখা সময়কালটি ২৪ ঘণ্টার সীমার মধ্যে থাকলেও, মামলার পরিস্থিতি বিবেচনায় তা যুক্তিসংগত কি না। যদি তিনি মনে করেন যে, ব্যক্তিকে যুক্তিসংগত সময়ের চেয়ে বেশি সময় ধরে আটকে রাখা হয়েছে, তবে তিনি তাকে পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে পারেন।
সুজিত দাস বনাম ভারত সরকার মামলায় এই রায় দিয়েছে শীর্ষ আদালত। মাদক মামলায় চার অভিযুক্তকে ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুর দুটোয় আটক করা হয়েছিল। কিন্তু আনুষ্ঠানিক গ্রেফতার দেখানো হয় পরের দিন সকাল ১১টায়। ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তাঁদের হাজির করা হয় ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে। শীর্ষ আদালত এই আটককে অসাংবিধানিক বলে চারজনকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছে।
Next Post