নিউজ ডেস্ক: পুজোর আগে অসমের ৫.৪২ লক্ষ পড়ুয়ার হাতে নিযুত মইনা, নিযুত বাবু প্রকল্পের অনুদান তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি জানিয়েছেন যে, রাজ্য সরকার শিক্ষা সহায়তা প্রকল্পগুলোর পরিধি বাড়াবে এবং শিক্ষার্থীদের মাসিক আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করবে। বাল্যবিবাহ ও অল্প বয়সে মাতৃত্বের মতো সামাজিক সমস্যা রোধের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
নিযুত মইনা প্রকল্পের আওতায় এবছর ৪,৩৯,৫৯৮ ছাত্রী সহায়তা পেয়েছে। অন্যদিকে, নিযুত প্রকল্পের আওতায় ১,০২,৫০১ ছাত্রকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করা, পরিবারের ওপর থেকে আর্থিক বোঝা কমানো এবং বাল্যবিবাহ ও স্কুল ড্রপ-আউটের মতো সামাজিক সমস্যা মোকাবিলা করার লক্ষ্যেই এই প্রকল্পগুলো প্রণয়ন করা হয়েছে।
হিমন্ত বলেছেন, অসমের বেশ কয়েকটি জেলায় বাল্যবিবাহ এবং অল্প বয়সে মাতৃত্ব এখনও উদ্বেগের বিষয়। জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষার তথ্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিছু এলাকায় মেয়েদের খুব অল্প বয়সে বিয়ে হচ্ছে এবং অল্প বয়সে মাতৃত্ব একটি বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি জানান, অসম সরকার বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে একটি অভিযান শুরু করেছে, যার ফলে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে দেওয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১০ হাজারেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নিযুত মইনা প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহায়তা এবং তাদের ওপর অল্প বয়সে বিয়ের চাপ কমানো।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মার দাবি, এই প্রকল্প চালুর পর থেকে কলেজে মেয়েদের ভর্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দেওয়া ছাত্রীদের সংখ্যা কমেছে।
অন্যদিকে, ছেলেদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করতে এবং তাদের অভিভাবকদের ওপর থেকে আর্থিক বোঝা কমাতে নিযুত বাবু প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এর ফলে কলেজে ছেলেদের ভর্তির হারও বৃদ্ধি পেয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, আগামী বছর এই প্রকল্প দুটির পরিধি আরও বাড়ানো হবে। এর আওতায় শ্রীমন্ত শংকরদেব বিশ্ববিদ্যালয়, আউনিআটি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষ্ণগুরু আধ্যাত্মিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রাগজ্যোতিষপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও অন্তর্ভুক্ত হবে।
তিনি জানান, এএনএম, জিএনএম এবং বিএসসি নার্সিং কোর্সের ছাত্রীদেরও নিযুত মইনা প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।