নিউজ ডেস্ক: ছাত্রীদের যৌন লাঞ্ছনার অভিযোগে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বিমল আকোইজামকে। দিল্লি পুলিশের এফআইআর করেছে তাঁর বিরুদ্ধে। বসন্ত কুঞ্জ থানার তলবে গিয়েছেন মণিপুরের কংগ্রেস সাংসদ বিমল আকোইজাম।
দিল্লিতে গিয়ে আকোইজাম বলেছেন, দিল্লিতে এসে মনে হচ্ছে যেন কোনও অচেনা জায়গায় এসেছি। আমি এখানে কাজ করেছি, আমার জীবনের অনেকটা সময় এখানে কাটিয়েছি। অথচ এখন মনে হচ্ছে, যেন কোনও প্রতিকূল বা বৈরী পরিবেশে এসে দাঁড়িয়েছি। এখানে নিজেকে আর আপন বলে মনে হচ্ছে না।
আকেআইজাম বলেছেন, দিল্লি পুলিশ আমাকে তদন্তে যোগ দেওয়ার জন্য ডেকেছে, তাই আমি এসেছি। আমি যদি না আসতাম, তবে মানুষ হয়তো বলত যে অধ্যাপক সহযোগিতা করছেন না। আমি সেসব এড়াতে চেয়েছি।
আকোইজাম আরও জানান, এই মামলাকে কেন্দ্র করে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে মণিপুরের সঙ্গে তাঁর সংযোগ আরও গভীর হয়েছে। তিনি বলেন, যা ঘটছে, তার ফলে মণিপুরের সঙ্গে আমার টান এখন আরও বেড়েছে।
কংগ্রেসের এই সাংসদ আশা প্রকাশ করেন যে, দিল্লিতে যে প্রক্রিয়া চলছে, তা যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রক্রিয়ার মতো খাপ পঞ্চায়েত-এর রূপ না নেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্তকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ঈশ্বর যা ভালো মনে করেন, তাই হবে। তবে আমি আশা করছি, ‘খাপ পঞ্চায়েত’ যা করেছিল, এখানে তার পুনরাবৃত্তি হবে না। এটাই আমার প্রত্যাশা।
যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর, ৯ অক্টোবর জেএনইউ আকোইজামকে অবিলম্বে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে। এরপর অবশ্য জেএনইউ টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেছে, আকোইজামকে বহিষ্কারে কোনও নিয়ম মানা হয়নি।
এদিকে, দিল্লি-ভিত্তিক চারটি মণিপুরি সংগঠন জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংসদ বিমল আকোইজামের সঙ্গে সম্পর্কিত যৌন হয়রানির ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে। তাদের বিবৃতিতে তদন্ত প্রক্রিয়ায় ত্রুটি, গোপনীয়তা লঙ্ঘন, রাজনৈতিক চাপ এবং সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটিকে অতিরঞ্জিত করে প্রচার করার মতো বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
তারা তদন্ত প্রক্রিয়ায় পদ্ধতিগত ত্রুটি, সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস এবং ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনগুলো জোর দিয়ে বলেছে যে, এই ধরনের ঘটনায় গোপনীয়তা রক্ষা, পদ্ধতিগত সততা বজায় রাখা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। তারা সতর্ক করে বলেছে, ঘটনাটিকে অতিরঞ্জিত করে প্রচার করা এবং জনসমক্ষে নানা জল্পনা-কল্পনা চালানো হলে তা তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য আরও ক্ষতির কারণ হতে পারে।
এই বিবৃতি দিয়েছে মেইতেই হেরিটেজ সোসাইটি, নিঙ্গোল ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ ইনিশিয়েটিভ (এনইউপিআই), দিল্লি মেইতেই কো-অর্ডিনেটিং কমিটি (ডিএমসিসি) এবং টিম মেইতেই পার্সোনালিটিজ (টিএমপি)।