নিউজ ডেস্ক: দিল্লি-কলকাতার পাশাপাশি বেঙ্গালুরুতে চালু হল অসম ভবন। উদ্বোধন করলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। বেঙ্গালুরুর রামোহাল্লিতে অসম ভবন উদ্বোধন করে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা রাজ্যের বাইরে বসবাসরত অসমের বাসিন্দাদের আহ্বান জানান যেন তাঁরা রাজ্যের দূত হিসেবে কাজ করেন এবং অসমে বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে তুলে ধরেন।
এই ভবন শুধু একটি সরকারি অতিথি নিবাসের চেয়েও বেশি কিছু হিসেবে বর্ণনা করে হিমন্ত বলেন, এটি বেঙ্গালুরুতে আসা অসমের শিক্ষার্থী, রোগী, সরকারি কর্মকর্তা এবং অন্যান্য মানুষের জন্য একটি মিলনস্থল ও নিজের বাড়ির মতো একটি আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করবে।
তিনি বলেন, এই ভবন শুধু অসম ও কর্ণাটকের জনগণের মধ্যে সহযোগিতার প্রতীকই নয়, বরং এটি অসমের জনগণের প্রতি রাজ্য সরকারের দায়বদ্ধতারও প্রতিফলন।
১৬,২৪৯ বর্গমিটার জমির ওপর ৭১.২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চারতলা এই অসম ভবনে বিশিষ্ট অতিথিদের জন্য সাতটি সুইট, ২৬টি মিনি-সুইট, ৩৬টি ডাবল-অকুপেন্সি কক্ষ (দুজন থাকার উপযোগী কক্ষ) এবং শিক্ষার্থী ও অন্যদের জন্য ২৬ শয্যাবিশিষ্ট একটি ডরমিটরি রয়েছে।
এই ভবনে অসমের রাজ্য সরকারি আধিকারিকদের জন্য আবাস, পাঁচটি কনফারেন্স রুম, একটি বড় ডাইনিং হল, একটি রেস্তোরাঁ, একটি ব্যাঙ্কোয়েট হল, প্রদর্শনী কেন্দ্র, একটি লাইব্রেরি, একটি জিমনাসিয়াম এবং ইনডোর গেমসের সুবিধা রয়েছে।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, এই প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকার ২০০৮ সালে ভীমানাকুপ্পে ক্রস এলাকায় পাঁচ একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল। তবে, জমিটি কৃষি জমি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় ২০১৬ সালে প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যায়।
২০১৮ সালে, যখন হিমন্ত অসমের পূর্তমন্ত্রী ছিলেন, তখন কর্ণাটক সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া যায়। তিনি জানান, ২০২২ সালের মে মাসে নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হয় এবং তিন বছরের মধ্যে তা সম্পন্ন হয়।
হিমন্ত কর্ণাটক সরকারকে ধন্যবাদ জানান যে তারা এমন সব সমস্যার সমাধান করেছে যার ফলে প্রকল্পটি বিলম্বিত হয়েছিল। এ ছাড়া তিনি স্থানীয় বিধায়ক এস টি সোমশেখরের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন।
অসম সরকার দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অসম ভবন গড়ে তুলছে, যাতে রাজ্য থেকে বিভিন্ন প্রয়োজনে ভ্রমণকারী মানুষ সেখানে থাকতে পারেন। বর্তমানে নয়াদিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা, শিলং, চেন্নাই এবং ভেলোরে এই ধরনের সুবিধা রয়েছে।
হিমন্ত ঘোষণা করেন যে, দিল্লিতে আরও দুটি অসম ভবন— একটি দ্বারকায় এবং অন্যটি সর্দার প্যাটেল মার্গে— নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে উদ্বোধন করা হবে। এ ছাড়া দেশের রাজধানীতে আরও একটি ভবন তৈরির জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মুম্বাইতে ক্যান্সার রোগীদের ব্যবহৃত বর্তমান ভবনের পরিবর্তে একটি নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। এ ছাড়া মুম্বাই বন্দরে আরও একটি ভবন এবং কলকাতার রাসেল স্ট্রিটের অসম ভবন সংস্কার চলছে।
অসম সরকার আহমেদাবাদ, গয়া এবং পুনেতে নতুন অসম ভবন নির্মাণের জন্য জমি চেয়ে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। শর্মা জানান, ইতিমধ্যে ১৬টি রাজ্য গুয়াহাটিতে তাদের অতিথি নিবাস স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে এবং অসম সরকার এই প্রকল্পগুলোর জন্য জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অসমের মন্ত্রী কেশব মহন্তও উপস্থিত ছিলেন।