অসম-মেঘালয় সীমান্তে ফের অশান্তি

23

জয়রাম কাঠার, খেরনি: অসম-মেঘালয় সীমান্তে ফের অশান্তি। অসমের পশ্চিম কার্বি আংলং জেলায় উত্তেজনা আবার বেড়েছে। জেলার তাপাত অঞ্চলে মেঘালয় থেকে কিছু লোক প্রবেশ করে। অসমের জমিতে চাষ করতে আসার অভিযোগ। তাতে আপত্তি জানায় কার্বি উপজাতির লোকেরা। সেই নিয়েই ঘটনার সূত্রপাত। মেঘালয়ের খাসি সম্প্রদায়ের কয়েকজন লোকের বিরুদ্ধে তর্কাতর্কিতে লিপ্ত হয় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি।
জানা যাচ্ছে, প্রশাসনের তরফে এলাকাটি বিতর্কিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে। তারপরও খাসি সম্প্রদায়ের কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে সেখানে চাষবাস করতে আসার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি চোখে পড়লে স্থানীয় কার্বি লোকেরা তাদের বাধা দিতে গেলে সমস্যার সৃষ্টি হয়। প্রথমে তর্কাতর্কি হয়, পরে গর্মাগরমিতে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। খবর পেয়েই স্থানীয় শীর্ষ আধিকারিক ছুটে যান ঘটনাস্থলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোতায়েন হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। জোরদার করে তোলা হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
পরিস্থিতি বাগে আনতে পশ্চিম জয়ন্তীয়া পাহাড় এবং হামরেনের শীর্ষ আধিকারিকের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়। বৈঠকে মেঘালয়ের চারজন সাধারণ মানুষকে উপস্থিত থাকার সুযোগ দেয় পুলিশ। পুলিশের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে কার্বি উপজাতির একাংশ। তাদের বক্তব্য, ‘এই জমি আমাদের জমি, কোনও আপস করা হবে না’। শেষ পর্যন্ত পার্শ্ববর্তী রাজ্যের চার ব্যক্তিকে বাদ দিয়েই অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা। যদিও প্রশাসনের তরফে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে এ প্রসঙ্গে ১১১ নং রংখাং বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তুলিরাম রংহাংয়ের দাবি, আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমার সঙ্গে ফোনে দফায় দফায় আলোচনা চলছে। অবিলম্বে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান মিলবে আশাবাদী তিনি।
উল্লেখ্য, এর আগেও অসম-মেঘালয় সীমান্তে বেশ কয়েকবার বিতর্কিত জমি নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দুই রাজ্যেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা করে তোলা হয়। মাঝেমধ্যেই পড়শি রাজ্য থেকে সরকারি পোস্ট ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। অসমের জমিতে প্রবেশ করে চাষবাস করতে আসার অভিযোগ স্থানীয়দের। সেই নিয়ে একাধিকবার সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে। সমস্যার চিরস্থায়ী একটা সমাধান হোক, দুই রাজ্যের সরকারের কাছেই দাবি স্থানীয়দের।