প্রায় ‘নির্বাসনে’ পাঠিয়েছিল মমতার সরকার, শুভেন্দুর সরকারে বিশেষ দায়িত্বে IPS দময়ন্তী সেন

38


দেবারতি ঘোষ: নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে বড় পদক্ষেপ নিল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া বিজেপি সরকার। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দেওয়া আশ্বাস অনুযায়ী এবার পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল জমানার প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং মহিলাদের উপর সংঘটিত অপরাধের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুটি পৃথক বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করল রাজ্য সরকার।

রাজ্য সরকারের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের নেতৃত্বে থাকছেন বিশ্বজিৎ বসু। কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত এই বিচারপতির নেতৃত্বাধীন কমিশনের সদস্য সচিব হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন আইপিএস অফিসার তথা এডিজি K Jayaraman। রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতর, নিয়োগ প্রক্রিয়া, আর্থিক অনিয়ম এবং প্রশাসনিক স্তরে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখাই হবে এই কমিশনের প্রধান কাজ। এমনটাই সূত্রের খবর।

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গে মহিলাদের উপর সংঘটিত অপরাধ, নারী নিরাপত্তাহীনতা এবং অভিযোগের তদন্তে গঠিত দ্বিতীয় কমিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়। এই কমিশনের সদস্য সচিব করা হয়েছে পার্ক স্ট্রিট ধর্ষণকাণ্ডের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী IPS অফিসার দময়ন্তী সেন-কে।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, দুটি কমিশনকেই প্রশাসনিক, নথিগত এবং পরিকাঠামোগত সহায়তা করবেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এবং স্বরাষ্ট্র সচিব সংঘমিত্রা ঘোষ। অভিযোগ গ্রহণ, তথ্য সংগ্রহ, সরকারি নথি পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের তলব করার ক্ষমতাও কমিশনগুলিকে দেওয়া হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলের অনুমান।

জানা গিয়েছে, আগামী ১ জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবে এই দুই বিচার বিভাগীয় কমিশন। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অভিযোগ গ্রহণের জন্য আলাদা পোর্টাল, হেল্পলাইন এবং শুনানির ব্যবস্থাও করা হতে পারে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই কমিশন গঠন রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করল। একদিকে যেখানে পরিবর্তনের সরকার দুর্নীতি বিরোধী অবস্থানকে সামনে আনছে, অন্যদিকে বিরোধীরা এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করতে শুরু করেছে। তবে সরকার স্পষ্ট করেছে, ‘আইনের পথেই সত্য সামনে আনা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’