নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে যেন যুদ্ধ চলছে! রাস্তায় নামলেই আটক করা হচ্ছে সবাইকে।
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে দুর্গে পরিণত হয়েছে দিল্লি। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত আটক অন্তত দুহাজার।
যন্তরমন্তরগামী রাস্তায় সাতস্তরীয় ব্যারিকেড। যন্তরমন্তরের সামনে ব্যারিকডের সঙ্গে ঝালাই করে দেওয়া হয়েছে কাঁটা।
যন্তর মন্তরের চারদিকে দেড় কিলোমিটার এলাকাকে স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। শুধু এই দেড় কিলোমিটার ব্যাসার্ধে মোতায়েন সাড়ে ৬ হাজার পুলিশকর্মী। ৩০০ সিসি ক্যামেরাও বসানো হয়েছে। গোটা দিল্লিতে মোতায়েন করা হয়েছে ২০ হাজার পুলিশকর্মী, ২৩ হাজার আধাসেনা।

প্রতিবাদে যোগ দেওয়ার আগেই গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে আটক করা হয় জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে। দিল্লির বিমানবন্দর থেকে আটক ককরোচ জনতা পার্টির তিন নেতা অভিজিৎ দীপকে আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে। সিজেপির আইনি প্রধান রত্না সিংকে আটক করা হয় দিল্লির রাস্তা থেকে। শনিবার সকালে দিল্লি বিমানবন্দরে বিমান নামতেই সিজেপির নেতাদের আটক করতে পুলিশ ঢুকে বিমানের ভেতরে। তাঁদের পুলিশ আটক করে। বাকি যাত্রীদের তখন দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল। মুম্বই থেকে দিল্লিতে এসেছিলেন রাঙ্কা-দীপকে-সৌরভ। বিমানবন্দর থেকে অভিজিৎ দীপকে-কে গুরুগ্রাম, সৌরভ দাসকে দিল্লি এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে দ্বারকায় নিয়ে গেছে পুলিশ।
মুম্বাইয়ে আটক করা হয়েছে মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধীকে।
কেরলমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাত, রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিট্টাস, সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবিকে আটক করেছে পুলিশ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে দিল্লির ৪৫ রেলস্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। এইসঙ্গে বন্ধ রয়েছে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশন।
দিল্লি এবং তার আশপাশের সব হোটেলে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। কোনও আন্দোলনকারী আশ্রয় নিয়েছে কি না, খতিয়ে দেখছে। হস্টেল বা কোনও বাড়িতে যাতে আন্দোলনকারীদের ঘর ভাড়া না দেয়, তা নিয়েও মালিকদের সতর্ক করেছে দিল্লি পুলিশ।
যন্তরমন্তরের আশপাশে চলছে পুলিশের মাইকিং। পুলিশ বার বার ঘোষণা করছে যে, সিজেপির কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি। যে কোনও জায়গায় জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে বারণ করছে পুলিশ। কমিউনিটি সেন্টার, মসজিদে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। বলা হয়েছে, সিজেপির কর্মসূচির অনুমোদন পুলিশ দেয়নি। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিলে আটক করা হবে।