ত্রিপুরায় একই পরিবারের তিন জনের ‘রহস্য মৃত্যু’!

25

নিউজ ডেস্ক: মেঝেতে বাবা, বিছানায় মায়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার। বাড়িতেই গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় পাওয়া গেছে ছেলের দেহ। একই পরিবারের তিন জনের ‘রহস্য মৃত্যু’-তে চাঞ্চল্য দক্ষিণ ত্রিপুরার মুহুরিপুরে। বাবা ও মাকে ‘খুন’ করে আত্মঘাতী হয়েছে ছেলে! এমনটাই সন্দেহ প্রতিবেশীদের।

মৃত শঙ্কর চক্রবর্তীর বড় ছেলে মিঠুন জানান, তার ভাই কৃষ্ণ চক্রবর্তী একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মী। আর পাঁচটা দিনের মতো এদিন সকালেও কাজে বেরিয়েছিল কৃষ্ণ। কিন্তু, সেদিন সে আগেই বাড়ি চলে আসে। এরপর মা-বাবাকে পুজোর আয়োজন করতে বলে এবং দাদাকে পাঠায় কাকার বাড়ি লকারের চাবি আনতে।

তাঁর দাবি, ফিরে এসেই বাড়ির দরজা-জানালে বন্ধ দেখতে পায় সে। অনেক ডাকাডাকির পরও কারও কোনও সাড়া-শব্দ পায়নি মিঠুন। এরপর জানালা দিয়ে উঁকি মারতেই ভাইকে ঝুলন্তে অবস্থায় দেখতে পায় সে। তারপর কোনও মতে দরজা খুলে বাড়িতে ঢুকতেই তারা মাথায় ভেঙে পড়ে আকাশ। মেঝেতে গলার নলি কাটা অবস্থায় পড়েছিল বাবার দেহ। একই অবস্থায় বিছানায় ছিল মা ছবি চক্রবর্তীর দেহ। এরপরই প্রতিবেশীদের তৎপরতায় খবর দেওয়া হয় পুলিশে।

জানা গেছে, কিছুদিন আগেই একটি মেয়ের সঙ্গে ‘কোর্ট ম্যারেজ’ হয় কৃষ্ণ চক্রবর্তীর। দাদা মিঠুনের অভিযোগ, এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর পিছনে দায়ী মেয়ের পরিবার। কারণ, মেয়েটির পরিবার এই বিয়েতে রাজি ছিল না।

এই ঘটনার সঙ্গে মেয়েটির পরিবারের কোনও যোগ রয়েছে কি না সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া ঘটনার সব সম্ভাব্য দিক তদন্ত করছে বাইখোড়া ও বিলোনিয়া থানার পুলিশ। এখন শুধু ফরেনসিক ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা। তদন্তে শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিবেশি ও পরিবারকে কোনও ধরণের জল্পনায় কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দক্ষিণ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।